চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গা ইউনিয়নের পাহাড় থেকে দলবেঁধে বন্য হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসছে। গত কয়েকদিন ধরে হাতির বিচরণে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাতির ভয়ে চাষাবাদ এবং পাহাড়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।

জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল শনিবার রাতে বন্য হাতির দল পাকা দেয়াল ভেঙে তাঁর বসতভিটায় প্রবেশ করে। এতে তাঁর কাঁঠাল বাগান ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক নিমাই দে জানান, এর আগের দিন ওই এলাকার ব্রাহ্মণ বিলে কৃষকদের স্কিমের পাইপ ভেঙে চুরমার করে দেয় হাতির দল। আবু সুফিয়ান নামের এক ব্যক্তির কাঁঠাল বাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা হাতির আক্রমণ থেকে ফসল ও জানমাল রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গা পাহাড়ি এলাকায় হাতির দল প্রায় প্রতিদিনই হানা দিচ্ছে। দিনের বেলা পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাতির দল লোকালয় ও ফসলি জমিতে নেমে আসছে।

স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান চৌধুরী বলেন, `হাতির দল শুধু ফসলের ক্ষতিই করছে না, বসতবাড়ি, ফলদ বাগানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। হাতির আক্রমণের ভয়ে অনেক কৃষক খেতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এভাবে হাতির ভয় থাকলে এলাকায় চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।'

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, `পাহাড়ে যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয়, তখন বন্য হাতিগুলো লোকালয়ে প্রবেশ করে। নির্বিচারে বন উজাড় হওয়ার কারণে হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে খাদ্যের অনুসন্ধান করছে। তবে এতে জনগণের জানমালের যাতে ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি বন্য হাতিগুলোও যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যে সব কৃষকের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির পাল লোকালয়ে আসার খবর পেলে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতির পালকে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।