ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনের মতো দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী ধরন্তি গ্রামের আলাল ও আশিকের কাছে বিলের পাটি বিক্রির প্রায় এক লাখ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত রবিবার (২৮ জুন) রাতে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ধরন্তি গ্রামের খাদিম মিয়া নিহত হয়।
খাদিম মিয়ার মৃত্যুর জের ধরে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে তার জানাজা শেষে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। টানা তিন দিনের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে কালিকচ্ছ বাজারে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের ঘটনা কিংবা সংঘর্ষের বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনাগুলোর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।








