ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এমন প্রতিপক্ষ খুব বেশি নেই, যাদের বিপক্ষে কখনো জয়ের স্বাদই পাওয়া হয়নি। নরওয়ে সেই বিরল ব্যতিক্রম। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে সেই অস্বস্তিকর ইতিহাস আরও দীর্ঘ করলেন আর্লিং হালান্ড। এক গোলে ব্রাজিলকে চাপে ফেললেন, তো আরেক গোলে শেষ করে দিলেন ম্যাচ। তাঁর জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে নরওয়ে। আর ব্রাজিল ৩৬ বছর পর বিদায় নিল শেষ ষোলো থেকে।
নিউ জার্সিতে ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, নরওয়ে বড় মঞ্চের চাপ নিয়ে ভাবছে না। তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। যদিও আলেক্সান্ডার সোরলথ অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। সেই সতর্কবার্তার পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল।
১১ মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। মাথিয়াস কুনিয়াকে বক্সে ফেলে দিলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বললেও পরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিতে পারেননি ব্রুনো গিমারেস। তাঁর শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড। সেই মুহূর্তেই যেন ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়।
প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মার্তিনেল্লি ও কুনিয়াদের আক্রমণ সামলানোর পর বিরতির পরও দুর্দান্ত ছিলেন নিল্যান্ড। নরওয়ের আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন হালান্ড। গোলশূন্য বিরতির পর ৪৭ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের শট ফিরিয়ে দিয়ে ব্রাজিলকে বাঁচান আলিসন।
ব্রাজিল আক্রমণে নতুন গতি আনতে এনদ্রিক ও পরে নেইমারকে নামায়। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো ৭৯ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে বক্সের মাঝখানে উঠে দুর্দান্ত হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন আরলিং হালান্ড।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। এনদ্রিকের একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রিস্টোফার আজের প্রায় আত্মঘাতী গোল করে বসেছিলেন। কিন্তু নিল্যান্ডের অসাধারণ সেভের পর বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কাসেমিরোও সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন।
ব্রাজিল যখন সমতার জন্য মরিয়া, তখনই শেষ আঘাত হানেন হালান্ড। ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট আলিসনকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। জোড়া গোলে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে যান নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে আছেন তিনি।
যোগ করা সময়ে অবশ্য একটুখানি আশা ফিরেছিল ব্রাজিল শিবিরে। কাসেমিরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। এবার আর ভুল করেননি নেইমার। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২–১ করেন তিনি। কিন্তু সেটি শুধুই ব্যবধান কমানোর গোল হয়ে থাকে।
শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় নরওয়ের উৎসব। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস লিখেছে তারা। আর ব্রাজিল? ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এবারও অপূর্ণই থেকে গেল।








