শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন নেইমার। কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থাকার পর আর ধরে রাখতে পারলেন না চোখের জল। সতীর্থরা এসে তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ততক্ষণে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মাঠে।

নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেছিলেন নেইমার। কিন্তু সেটি শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে, ব্রাজিলকে আর ম্যাচে ফেরাতে পারেনি।

শেষ বাঁশি বাজতেই নরওয়ের খেলোয়াড়রা যখন ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন, তখন তার ঠিক উল্টো দৃশ্য ব্রাজিল শিবিরে। কেউ হতাশায় মাঠে শুয়ে পড়েছেন, কেউ দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যটি ছিল নেইমারকে ঘিরে। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি মাঠ ছাড়েন। সতীর্থ কাসেমিরো, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আলিসন বেকার তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বড় আশা ছিলেন নেইমার। অবশ্য চোটের কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে খেলাই হয়নি তাঁর। আজ ম্যাচের ৬৭ মিনিটে তাঁকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেওসময় শেষ হয়ে যায় খুব দ্রুত। শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হয় ব্রাজিলের।

অন্যদিকে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার রাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হালান্ড। তাঁর জোড়া গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। আর ব্রাজিলের জন্য এই রাত হয়ে থাকল স্বপ্নভঙ্গের, যেখানে শেষ বাঁশির পর নেইমারের অশ্রুই হয়ে উঠল পরাজয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক।