কয়েকদিন আগেও তার কোনো ক্লাব ছিল না। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় ৩০ জুন থেকে কার্যত বেকার ওরইয়ান নিল্যান্ড। ক্লাব না থাকার জ্বালা ভুলে তিনি বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিলেন। ৩৫ বছর বয়সি নিল্যান্ড শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দেন।
নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই নিল্যান্ড বুঝিয়ে দেন, এটি তার দিন। ১৩ মিনিটে ব্রাজিল পেনালটি পায়। শট নেন ব্রুনো গিমারেস। নিল্যান্ড রুখে দেন বুদ্ধি খাটিয়ে। ব্রুনো ধীরগতিতে রানআপ নিয়ে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিল্যান্ড সঠিক দিক অনুমান করে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত সেভ করেন। সেই মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
ম্যাচ শেষে নিল্যান্ড বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি পেনালটি বাঁচাতে পারলে বিপক্ষের কাছে কঠিন হয়ে যায়। পাশাপাশি এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল।’ এই পেনালটি আটকে তিনি ব্রাজিলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার পর একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন। যেমন প্রথমার্ধে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও ভিনিসিয়ুসের নিশ্চিত শট রুখে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনোর শটও আটকে দেন।
২০২৩ সালে আরবি লিপজিগ থেকে সেভিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন নিল্যান্ড। ক্যারিয়ারের শুরু নরওয়ের হড ক্লাবে, এরপর মলদে, অ্যাস্টন ভিলা, বোর্ন মাউথসহ ইউরোপের একাধিক ক্লাবে খেলেছেন। ২০১৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৭৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বিশ্বকাপে নিল্যান্ড প্রথম পছন্দের গোলকিপার ছিলেন না। নিকিতা হাইকিনকে সামনে রেখে নরওয়ের লড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যা হওয়ায় সুযোগ পান নিল্যান্ড। সেটা কাজে লাগালেন। ম্যাচ শেষে নরওয়ের ফরোয়ার্ড অস্কার বব বলেন, ‘আমাদের দলে একজন হলান্ড আছে; কিন্তু আজ আমাদের আসল নায়ক গোলকিপার নিল্যান্ড।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে নিল্যান্ড বলেন, ‘এখনো কোনো ক্লাব ফোন করেছে কি না দেখিনি। আগে ডোপ টেস্টটা শেষ করি, তারপর দেখব। তবে এটা নিঃসন্দেহে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।’








