ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা ব্রাজিল শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোল সেলেসাওদের স্বপ্ন শেষ করে দেয়। এই হার ব্রাজিল ফুটবলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সামনে এনে দিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল। ৩৬ বছর পর শেষ ষোলোতেই থামতে হলো তাদের। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এমন বিদায় বিরল ঘটনা। গোটা টুর্নামেন্টে তাদের তেমন আত্মবিশ্বাসী বা ধারালো দেখায়নি। শেষ পর্যন্ত সেই দুর্বলতাগুলোই নরওয়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রাজিলের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলো অনেকটা এরকম-গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ নষ্ট করা, মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব, নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের ঘাটতি, আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অসংগঠিত রক্ষণ। নরওয়ের বিরুদ্ধে যেমন হলান্ডকে আটকাতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা।
এই হার আরও একটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান সামনে নিয়ে এসেছে। ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ইউরোপের দলের কাছে বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। ২০০৬-এ ফ্রান্স, ২০১০-এ নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮-তে বেলজিয়াম, ২০২২-এ ক্রোয়েশিয়া এবং ২০২৬-এ নরওয়ে। প্রতিবারই প্রতিপক্ষ আলাদা। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে ব্যবধানই যেন ক্রমশ বেড়ে চলেছে। নরওয়ের বিরুদ্ধেও পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে একবারও জিততে পারেনি ব্রাজিল। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর আশায় এক বছর আগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কার্লো আনচেলত্তিকে। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী কোচকে অনেকেই ব্রাজিল ফুটবলের ত্রাতা হিসাবে দেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ব্রাজিল আর রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর যুগের ব্রাজিল এক নয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বিশ্বমানের ফুটবলার হলেও তাকে ঘিরে যে দল তৈরি হয়েছে, সেখানে প্রতিভার ঘাটতি স্পষ্ট। মাঝমাঠে সৃজনশীলতা কম, আক্রমণে ধার নেই। নতুন প্রজন্মের অনেক ফুটবলার এখনো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি।
ম্যাচের পর আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, দলে আরও তরুণ ও ভালোমানের ফুটবলার প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার দল নির্বাচন ও বদলি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তবে শুধু কোচকে দায়ী করলে সমস্যার আসল কারণ আড়াল হয়ে যাবে। হারের রাতেও নেইমার-পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসাবে চারটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত সাফল্যও হারিয়ে গেছে দলের ব্যর্থতার আড়ালে। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল। এবারও স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় টানা ছয় বিশ্বকাপ ট্রফিশূন্য থাকল সেলেসাওরা। ৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকে বিদায় এবং ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এখন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ব্রাজিল ফুটবলের সামনে নতুন করে নিজেদের গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।








