বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সব ধরনের চাল বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে পোলাও চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও বাড়তি মুনাফা করতে সব ধরনের মুরগির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া মাছের দামেও যেন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বেড়েছে সবজির দামও। সব ধরনের পণ্য কিনতে ক্রেতার বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, কাওরান বাজারসহ একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরু চালের মধ্যে ভালোমানের মিনিকেট প্রতিকেজি ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৮৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি মাঝারিমানের মিনিকেট প্রতিকেজি ৭২-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ৭০-৭২ টাকা ছিল। পাইজাম ও বিআর ২৮ জাতের চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা, যা এক মাস আগে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা ছিল। কেজিতে দুই টাকা বেড়ে মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। এছাড়া এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া বা পোলাওয়ের চালের দাম। কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি খোলা পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও আড়তদার সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিল মালিকরা ইচ্ছা করে এ সময় চালের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসাবে দেখাচ্ছে। বাড়তি দামে কিনে আমাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকায়, যা আগে ২৮০-৩৩০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা ও খাসির মাংস কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। নয়াবাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. সোহান বলেন, কাপ্তানবাজারে পাইকারি পর্যায়ে মুরগির দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকাররা বলছেন সংকট। কিন্তু সেখানে মুরগির অভাব নেই। প্রতিদিনের মতোই ঢাকার বাইরে থেকে খামারিরা মুরগি সরবরাহ করছেন। সঠিকভাবে তদারকি করলে মুরগির দাম কমে আসবে।
গত সপ্তাহের মতোই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। এক্ষেত্রে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি রুই মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকা, কাতল ২৩০-৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরার কেজি ৫০০-৭০০ টাকা ও প্রতিকেজি টাকি মাছ ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, কই ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা এবং শোল মাছের কেজি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামও বেড়েছে। শুক্রবার প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ১১০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৬০-৮০ টাকা ছিল। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ১০০-১২০ টাকা, কাঁকরোল ৬০-৭০ টাকা ও বরবটি প্রতিকেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ ও হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণার পরও খুচরা বাজারে এর প্রভাব দৃশ্যমান নয়। সাধারণ ভোক্তা যাতে বাজেটের সুবিধা পান সেজন্য বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।








