আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। এ পর্যন্ত চারটি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষার দিন সকাল থেকে বৃষ্টি। বিরতি ছাড়াই মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। জানালা দিয়ে বারবার বাইরে তাকাই। রাস্তা ঘাটে থই থই পানি। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ি, অটোরিকশা সাঁই করে ছুটে যায়। এ বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে যে যাব পরীক্ষা দিতে! ভেবে কূল পাই না। যে পরিমাণ বৃষ্টি, ছাতাতেও কাজ হবে না। কিন্তু কোনো উপায় নেই। পরীক্ষা তো! যেতেই হবে। পরীক্ষার জিনিসপত্র গুছিয়ে রওনা হলাম। নিচে নেমে দেখি রাস্তা পুরো সমুদ্রসৈকতের মতো। মনে হচ্ছে নৌকা খুব ভালো চলবে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে একটা অটোরিকশা পেলাম। হাঁটু সমান পানি। ভরা রাস্তায় ধীরে ধীরে চলতে গিয়ে মাঝে মাঝে ছোট ছোট গর্তে চাকা পড়ে গিয়ে বেশ ঝাঁকুনি হতে থাকে। আমি ভয় পেয়ে যাই। এ বুঝি পড়ে গেলাম ময়লা পানির মধ্যে! চলতে চলতে পানির ছিটা এসে পুরো জুতা ভিজে যায়। কোনোমতে কুঁজো হয়ে বসে চেষ্টা করি না ভেজার জন্য। অনেক কষ্টে স্কুলে পৌঁছালাম। রাস্তার পানি স্কুলের গেট ছুঁয়ে ভেতর পর্যন্ত চলে গেছে। আমার পৌঁছাতে বেশ দেরিই হয়ে গেছে। এতক্ষণে টিচার খাতা দিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু একি! কোন টিচারই নেই ক্লাসে। ছাত্র সংখ্যাও কম। কয়েকজন ছাত্র বসে আছে ক্লাসে। আমি ক্লাসে ঢুকতেই একজন টিচার এসে জানান আজ পরীক্ষা হবে না। অতি বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মনে মনে ভাবলাম ধূর! এত কষ্ট করে আসলাম। আর পরীক্ষা হবে না? মনটা খারাপ হয়ে গেল। কীভাবে আবার বাসায় ফিরব? চিন্তায় পড়ে গেলাম। বাসায় ফেরার জন্য কোনো বাহন পেলাম না। কী আর করার। জুতা খুলে পানি মাড়িয়ে হেঁটে রওনা হলাম। স্কুল থেকে বাসা বেশ কাছেই। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে অনেক কষ্টে বাসায় ফিরলাম। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে আমি ভিজে জবুথবু। অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজেছি। বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো এক অন্যরকম অনুভূতির ব্যাপার। বাসায় এসে ভেজা জামাকাপড় পরিবর্তন করে মাথা মুছলাম। ঝিমধরা মনে সোফায় বসে আছি। হঠাৎ বাবা ফোন করে জানালেন, আমি বৃত্তি পেয়েছি। ট্যালেন্টপুলে। আমি আনন্দে ভেসে গেলাম। বাবা অফিস থেকে আসার সময় মিষ্টি নিয়ে আসেন। বাসার সবাই ভীষণ খুশি।
শাহিয়ান মুত্তাকী
ষষ্ঠ শ্রেণি
ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল
গ্রীন মডেল টাউন শাখা, মুগদা, ঢাকা।






