আষাঢ়-শ্রাবণের ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার অনুভূতি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এর হাত ধরে আসে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা। বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়, যার ফলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে ও জীবাণুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম ভেষজ চা বা ‘হার্বাল টি’ হতে পারে আপনার অন্যতম সেরা সঙ্গী। নামে ‘চা’ হলেও এগুলো বিভিন্ন শুকনো ফল, ফুল, মসলা বা ভেষজ উপাদান পানিতে ফুটিয়ে তৈরি করা হয়। বর্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভেজাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। তবে বাড়ি ফিরে অলসতা করে বসে না থেকে দ্রুত এক কাপ পুষ্টিকর ভেষজ চা পানের অভ্যাস আপনাকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখবে। এই চাগুলো সরাসরি কোনো রোগের চিকিৎসা না হলেও একটি স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের অংশ হিসেবে আপনার শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।
বৃষ্টিতে ভেজার পর রান্নাঘরে গিয়ে ঝটপট এক কাপ আদা চা বানিয়ে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আদার মধ্যে থাকা ‘জিঞ্জেরল’ নামের সক্রিয় উপাদান বমি বমি ভাব ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। আদা চায়ের কড়া স্বাদ ও ঔষধি গুণ শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্যাফেইন ছাড়াই শরীরে তাৎক্ষণিক উদ্দীপনা ও উষ্ণতা জোগায়।
হলুদের উজ্জ্বল রঙের জন্য দায়ী ‘কারকিউমিন’ নামের উপাদান। এটি শরীরের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে ও প্রদাহ বা বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে হালকা ব্যথা বা মেজমেজে ভাব হলে হলুদ চা দারুণ আরাম দেবে। তবে চায়ের মাধ্যমে এই কারকিউমিন শরীর সহজে শোষণ করতে পারে না, তাই ভালো ফলের জন্য এর সঙ্গে সামান্য আদা বা গোলমরিচ মিশিয়ে নেওয়া ভালো।
মৌরি চা
মৌরির বীজ থেকে তৈরি হালকা মিষ্টি স্বাদের এই চা বৃষ্টিতে ভেজার পর ঠান্ডা-কাশিতে কফ পরিষ্কার করতে দারুণ সাহায্য করে। এর পাশাপাশি মৌরিতে থাকা ‘অ্যানেথোল’ পরিপাকতন্ত্রের পেশি শিথিল করে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অস্বস্তি দূর করে।
বৃষ্টির পানিতে ভিজে অনেকেরই গলা খুসখুস করে বা গলাব্যথা শুরু হয়। যষ্টিমধুর শিকড় থেকে তৈরি এই ক্যাফেইনমুক্ত চায়ে রয়েছে ‘গ্লাইসিরাইজিন’। এটি গলাব্যথা বা গলার ইরিটেশন দূর করতে ও পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রাখতে কাজ করে। তবে এটি নিয়মিত না খেয়ে কেবল মাঝেসাঝে গলাব্যথার উপশমে খাওয়া উচিত, কারণ, অতিরিক্ত পানে এটি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়াতে পারে।
পুদিনা পাতা বা পেপারমিন্ট থেকে তৈরি এই চা মানসিক ক্লান্তি দূর করে মনকে নিমেষেই সতেজ করে তোলে। এতে থাকা ‘মেন্থল’ পাকস্থলীর পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে, যা পেটের অস্বস্তি কমায়। বৃষ্টিতে ভিজে আসার পর অলসতা কাটাতে এই চায়ের সুগন্ধ চমৎকার কাজ করে।
ঘরে যদি তাৎক্ষণিক কোনো ভেষজ না থাকে, তবে সাধারণ এক কাপ কড়া রং চা-ই সই! এতে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালি প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ব্ল্যাক টি শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমায় এবং এতে থাকা ক্যাফেইন দ্রুত মনোযোগ ও মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে চাঙা করে তোলে।
সূত্র: হেলথ লাইন, ডেইলিমেইল








