পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্যাকেজিং উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস। গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক নামের একটি কারখানা চালু করেছে।
এ কারখানায় বছরে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং উৎপাদিত হবে। মঙ্গলবার টঙ্গীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কারখানাটির উদ্বোধন করেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তামারা হাসান আবেদ বলেন, ব্যবসা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যম নয়; বরং ইতিবাচক সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনেরও শক্তিশালী চালিকা শক্তি। ব্র্যাক গ্রিনপ্যাকের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল প্যাকেজিং প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেই সঙ্গে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তামারা আবেদ আরও বলেন, ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক শুধু উৎপাদন কারখানা নয়; এটি উদ্ভাবন, দায়িত্বশীল ব্যবসা ও পরিবেশের প্রতি ব্র্যাকের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এ উদ্যোগ প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে এই কারখানায় প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ মেট্রিক টন পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং উৎপাদিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে বছরে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে প্রতিবছর এই পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর ৪০ কোটি মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় প্যাকেজিং খাতে। প্রচলিত প্লাস্টিক সম্পূর্ণভাবে পচতে ২০০ থেকে ৫০০ বছর সময় লাগলেও ব্র্যাক গ্রিনপ্যাকের উৎপাদিত পচনশীল পণ্য প্রায় ছয় মাসের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সাব্বির আহমেদ, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








