ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে চালানো এই হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে দেশটির বড় বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও লজিস্টিক সেন্টার। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।হামলার পর কিয়েভের রাতের আকাশ আগুনের লেলিহান শিখায় লাল হয়ে ওঠে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ১১৫টি ড্রোন ও ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ‘জিরকন’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ড্রোনগুলোর ৯০ শতাংশ ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও কোনো ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকাতে পারেনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য মিত্রদেশগুলোর পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ইন্টারসেপ্টর) সরবরাহে ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ যারা নিহত হয়েছেন, পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে তাঁদের প্রাণ বাঁচানো যেত।’ তিনি জানান, রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ অবকাঠামো, একটি রেলস্টেশন এবং লজিস্টিক গুদাম।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভের সাতটি লজিস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে তাদের দাবি। তবে ইউক্রেনের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই হামলায় তাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যবসা কয়েক মিনিটে ছাই হয়ে গেছে। ইউক্রেনের বৃহত্তম অনলাইন রিটেইল প্ল্যাটফর্ম ‘রোজেটকা’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইরিনা চেচোটকিনা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবকিছু চোখের সামনে পুড়তে দেখে বুক ফেটে যাচ্ছিল। তবুও আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। কিয়েভের এই সংকটের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেটস্কি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন।\