জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজুলেশন আইন পাশের আগে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেওয়া ১৮(ক) ধারাটি শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্তর্বর্তী সরকারের করা মূল অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের সময় শেষ মুহূর্তে যুক্ত করা এ ধারাটি নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল আপত্তি উঠেছিল। সংসদে বিরোধী দলগুলোর জোরালো প্রতিবাদ এবং অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের কঠোর সমালোচনার মুখে সরকার যে শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। সরকারের এ নমনীয়তা জন-আকাঙ্ক্ষা এবং আর্থিক খাতের সুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকারই বহিঃপ্রকাশ।
বিতর্কিত ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে পুরোনো ও বিতর্কিত মালিকদের ফিরে আসার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রায় সবারই আশঙ্কা ছিল, বিগত সময়ে ব্যাংক খাতকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া এস আলমের মতো বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে আবারও ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এ ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল। যেখানে দেশের আর্থিক খাতকে লুটপাট ও অনিয়ম থেকে মুক্ত করতে ব্যাংক সংস্কার এখন সময়ের দাবি, সেখানে এমন একটি ধারা ব্যাংক খাতের ক্ষত আরও গভীর করত এবং সংস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রহসনে পরিণত করত।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যাংক রেজুলেশন আইন অপরিহার্য। সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন বা একীভূত করার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত লুণ্ঠনকারীদের কবল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করা, অপরাধীদের পুরস্কৃত করা নয়। ১৮(ক) ধারাটি বহাল থাকলে তা ব্যাংক লুটেরাদের জন্য একটি আইনি সুরক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করত, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। শেষ পর্যন্ত সরকার যে আত্মঘাতী এ ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেজন্য তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আর্থিক খাতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু কালো আইন বাতিলই যথেষ্ট নয়, যারা অতীতে ব্যাংক লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায়ও আনতে হবে। আমরা আশা করব, সরকার আগামী দিনেও যে কোনো আইন প্রণয়নে জনস্বার্থ ও আর্থিক খাতের স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থের কাছে মাথানত করবে না।








