ঢাকায় শনিবার রাত থেকে অঝোর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অলিগলি ও প্রধান সড়কে পানি জমায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ। বিশেষত ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশাও চলাচলে সমস্যার মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, জমে থাকা পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশার মোটর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে রিকশা বিকল হয়ে পড়ছে এবং চালকদের অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা জানান, পানিতে মোটর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় তারা অনেকেই জলাবদ্ধ সড়ক এড়িয়ে চলছেন।

হাফিজুল ইসলাম নামের একজন চালক বলেন, একটি মোটর কিনতে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা লাগে। তাই পানির মধ্যে রিকশা চালিয়ে ঝুঁকি নিতে চাই না।
আরও পড়ুন
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ ঢাকা, বিপর্যস্ত জনজীবন
মিরপুর-২ নম্বর এলাকার সাইফুল ইসলাম নামের একজন ব্যাটারি রিকশাচালক বলেন, সকাল আটটার দিকে রিকশা নিয়ে বাইর হইছিলাম। দুপুর দুইটা বাজে। ভাড়া মারছি মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকা। অন্যদিন হলে এতোক্ষণে ৮০০-৯০০ টাকা ভাড়া মারতে পারতাম।
ভাড়া কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সব রাস্তায় যাইতে পারতাছি না, পানি আর পানি। থৈ থৈ পানিতে রিকশার চাকাসহ মোটর ডুইবা যায়। আর মোটর ডুইবা গেলে মাইর খাইয়া যায়। একটা মোটরের দাম সাড়ে চার হাজার টাকা। এ কারণে পানির রাস্তায় বেশি ভাড়া পাইলেও যাইতে পারতাছি না।
এমন পরিস্থিতিতে চাহিদা বেড়েছে প্যাডেলচালিত রিকশার। মোটর না থাকায় জলাবদ্ধ সড়কেও তুলনামূলক নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন এসব রিকশার চালকরা। প্যাডেল রিকশাচালকদের ভাষ্য, বৃষ্টির দিনে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
সেগুনবাগিচা এলাকার রবিউল ইসলাম নামের একজন প্যাডেল চালিত রিকশার চালক জাগো নিউজকে বলেন, আমরা পায়ে চালাই, তাই মোটর নষ্ট হওয়ার ভয় নাই। আজ যাত্রীও ভালো পাওয়া যাচ্ছে, ভাড়াও বেশি পাচ্ছি।

কাফিল মিয়া নামের একজন রিকশাচালক জানান, ব্যাটারি রিকশার কপাল মন্দ আজ। তারা তেমন ভাড়া পাচ্ছে না। যেখানে পানি আছে এমন সব জায়গায় যাইতে প্যাডেল রিকশা লাগছে। যাত্রীরাও আজ প্যাডেল রিকশা ডেকে ডেকে পারাপার হচ্ছেন।
সকাল ৯টায় বের হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্যাডেল রিকশায় কাফিল মিয়া আয় করেছেন ১১০০ টাকা।
আরও পড়ুন
‘ব্যাংকে জব করি, ড্রেস কোড আছে, পানি পেরিয়ে অফিসে যাবো কীভাবে’
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমায় যানবাহন চলছে অনেকটাই ধীরগতিতে। অফিস ফেরত ও সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
রোববার ভারী বৃষ্টিপাতজনিত সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রোববার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নদীবন্দর সম্পর্কিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের রোববার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান আছে।
আরও পড়ুন
বৃষ্টিতে ডুবল সচিবালয়ও, পানি মাড়িয়ে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
এর প্রভাবে রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
টিটি/এমকেআর








