রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার বাস্তবতায় বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দুই সচিব ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল জনস্বার্থে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রাজউক ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করে। কিন্তু পরিকল্পনাটি গেজেট আকারে কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এতে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বাড়ছে এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

জলাবদ্ধতার প্রভাব ঢামেকেও, জরুরি বিভাগে রোগী কমেছে ২০ শতাংশ

নোটিশে আরও বলা হয়, সবুজায়ন সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং জোনিং আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনস্বার্থ ও নগর ব্যবস্থাপনার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের এ বিষয়ে বর্তমান অবস্থান কী, তা জানা প্রয়োজন। বিপুল অর্থ ব্যয়ে যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।’

ড্যাপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পও স্থবির হয়ে আছে।’

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে ইলিয়াস আলী মণ্ডল বলেন, ‘পরিকল্পিত ঢাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এত শুনানি ও কর্মশালা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়? সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারে না, মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। বড় প্রকল্পের আগে মানুষের ন্যূনতম নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ড্যাপ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।’

আরও পড়ুন

জলাবদ্ধ ঢাকা / ব্যাটারি রিকশার কপাল মন্দ, কামাই বেড়েছে প্যাডেল রিকশার

তিনি বলেন, ‘শুধু শাহবাগ বা তেজগাঁওকে বিচ্ছিন্নভাবে রক্ষা করলে হবে না। পুরো ঢাকার জন্য সমন্বিত নগর পরিকল্পনা প্রয়োজন। বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায়ও ড্যাপের প্রস্তাবনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পনাগুলো কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।’

বিগত সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনমুখী উন্নয়ন প্রকল্প কোনো নির্দিষ্ট সরকারের নয়; এগুলো জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হয়। আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতি হয়ে থাকলে সেটি আলাদা বিষয়। তবে জনস্বার্থে নেওয়া কার্যকর প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা উচিত।’

ড্যাপ বাস্তবায়নের দায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর মূল দায়িত্ব রাজউক ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও অর্থায়ন ও তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদেরও নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ ঢাকা, বিপর্যস্ত জনজীবন

২০২২ সালের ২৪ আগস্ট গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ড্যাপ (২০২২–২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কিছু বিধান সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে সরকারি ও বেসরকারি আবাসন, ব্লকভিত্তিক উন্নয়ন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও সুবিধা বৃদ্ধি, ভবনের উচ্চতা ও প্রশস্ততার ক্ষেত্রে ছাড় এবং সড়কের প্রশস্ততার শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়।

সম্প্রতি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবও ড্যাপের কিছু বিধান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

এফএইচ/এসএইচএস