রাজধানীতে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র নিউ মার্কেট। দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিক্রির আশায় দোকান খুললেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলেও নিউ মার্কেট এলাকার অধিকাংশ দোকানে বউনি হয়নি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  

রবিবার (১২ জুলাই) বিকালে নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় জলাবদ্ধতা, ক্রেতাশূন্যতা ও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় চরম হতাশার ছাপ ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে। তারা বলছেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতা কমে যায়, আবার দোকানে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও গুনতে হয়। 

নিউ মার্কেট এলাকার ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটেও ঢুকেছে বৃষ্টির পানি। এই মার্কেটের ফেরদৌস শাড়ীস-এর বিক্রয়কর্মী মো. মাসুম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘সকালে দোকান খুলতেই দেখি ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। কিছু কাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এখানে এই অবস্থা হয়। বিকাল পর্যন্ত এক টাকাও বিসমিল্লাহ করতে পারিনি। এরকম চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’’

নিউ মার্কেটে জুতা বিক্রি করেন আব্দুল সালাম। তিনি বলেন, ‘‘পানি জমে থাকায় ক্রেতারা মার্কেটে ঢুকতেই পারছে না। দোকানের সামনে হাঁটুসমান পানি। কয়েক জোড়া জুতা নষ্ট হয়েছে। সকাল থেকে বসে আছি, কিন্তু বিক্রি নেই। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের মত ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’’

নীলক্ষেতের হাসান বই বিতানের বিক্রেতা মো. হাসান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘বই পানিতে ভিজে গেলে আর বিক্রি করা যায় না। দোকানের নিচের তাকে রাখা বেশ কিছু বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ দুপুর পর্যন্ত দোকানই ঠিকমতো খোলা যায়নি। বিকাল হয়ে গেলেও ক্রেতার দেখা নেই। ক্ষতির পরিমাণ কী হবে, সেটা এখনই বলা কঠিন।’’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে বৃষ্টির কারণে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতারাও। অনেকেই পানি মাড়িয়ে মার্কেটে যেতে না পেরে ফিরে গেছেন। ফলে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ এই বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম। নিউ মার্কেটে পোশাক নিতে এসেছেন লোপা আক্তার। তিনি বলেন, ‘‘ভাইয়ের বিয়ের জন্য কেনাকাটা করতে আসছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির জন্য অধিকাংশ দোকান বন্ধ। যেগুলো আছে সেগুলোতে পছন্দের মত পাচ্ছি না। তাই আজ না কিনে চলে যাচ্ছি।’’

জলাবদ্ধতায় ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মকবুল হোসেন সরদার বলেন, ‘‘এখানে অধিকাংশ দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ীর মালামাল নষ্ট হয়েছে। তাই অধিকাংশ দোকান বন্ধ করে দোকানদারা চলে গিয়েছে। আজ অনেকেই এক টাকাও বিক্রি করতে পারেনি। এই এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’’

তিনি সিটি কর্পোরেশনকে ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে জলাবদ্ধতা নিরসনের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। 

এদিকে নিউ মার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে এসে ডিএসসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘‘টানা ভারি বর্ষণে সাময়িক জলজট তৈরি হলেও আমাদের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর থেকে মাঠে রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’’ 

এ সময় তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে একসঙ্গে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।