অবশেষ বাঘিনী'র প্রত্যাবর্তন। পূর্ব সুন্দরবনে শিকারীর ফাঁদে আটকে পড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ৬ মাসের নিবিড় পরিচর্যার পর জুলাই) ফিরিয়ে দেয়া হলো তার রাজত্বে।তার আবাসস্থল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায়। তবে বাঘিনীর নিরপত্তা ও গতিবিধি দেখার জন্য সন্নিহিত বনাঞ্চলের ৮ কিলোমিটার জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি ট্রাপিং ক্যামেরা।বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালের অদুরে শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে এই বাঘিনী। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ৪ জানুয়ারি বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রাস্থ বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড বাঘিনীকে নিয়মিত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা করেন।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, খুলনা থেকে জলযানে বাঘটিকে সুন্দরবনে এনে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় অবমুক্ত করে দেয়া হয়েছে।বাঘটি অবমুক্তির সময় বাংলাদেশ সরকারের বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ,  প্রশাসন ও বনবিভাগ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বনে অবমুক্ত করা হয়।রেজাউল করীম চৌধুরী আরো বলেন, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবন থেকে উদ্ধারের সময় বাঘটি গুরুতর আহত অবস্থায় ছিলো। বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ে ৩ ইঞ্চির মতো জায়গায় চামড়া, মাংশপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে কেটে ক্ষত হয়ে পচন ধরেছিল। ৬ মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় বাঘিনীটি এখন পুরোপুরি সুস্থ।বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ বলেন, সুস্থ হয়ে বাঘিনীটি আগের চেহারায় ফিরেছে। ৯ ফুট লম্বা বাঘিনীর ওজন বেড়ে হয়েছে ৯০ কেজি। তার ক্ষিপ্রতাও কিছুটা বেড়েছে। সে এখন শিকার ধরে খেতে পারবে। বাঘটিকে বনে ছাড়ার পরে সুন্দরবনে গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তার গলায় একটি স্যাটেলাইট রেডিও কলার পরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে কিছু জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে সেটি আনা সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ক্যামেরা ট্রাপিং এর জন্য আন্ধারমানিক এলাকার বনাঞ্চলের ৮ কিলোমিটার জুড়ে ২০টি স্বয়ংক্রিয় গোপন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘ বিশেষজ্ঞরা আগামী এক বছর বাঘটির নিরাপত্তা, জীবনাচরণ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে।