বাগেরহাটে চাকরি বহালের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৮ টায় হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দোতলায় প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে করিডোরে অবস্থান নিয়েছেন তারা। কর্মসূচি চলবে দিনব্যাপী।
অবস্থানকারীদের দাবি, দুই বছর ধরে তারা সরকারি সব নিয়মকানুন মেনে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু নবনিযুক্ত ঠিকাদার এইচ আর ডি অ্যান্ড ই এজেন্সি‘র স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান অজানা কারণে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ কর্মচারীদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। চাকরি ফিরে পেতে ৬৬ জন কর্মচারী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনও করেছেন। চাকরিতে বহাল না করলে, আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা।
আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ দুই বছরের মতো হলেও, এখানে অনেক কর্মচারী আছেন যারা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন। অনেকে আরও বেশি সময় ধরে সেবা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন নাম মাত্র বেতন এমনকি বিনা বেতনে সেবা দিতে দিতে দক্ষ হয়েছেন তারা। এসব কর্মচারীদের উপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেবা গ্রহীতারা অনেক খুশি, তারপরও আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাকরি বহাল চাই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী যোগদান করেন। যোগদানের সময় তাদের কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু নবনিযুক্ত ঠিকাদারের চুক্তি অনুযায়ী, হাসপাতালে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কর্মচারীদের নিয়োগপত্র দিয়েছে ঠিকাদার।
এদিকে নতুন নিযুক্ত কর্মচারীরা হাসপাতালে যোগদান করতে আসলে হট্টগোল হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সৌরভ কুমার মন্ডল ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. সাইদুর রহমানকে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘পুরোনো কর্মচারীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত যে আদেশ দেবে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। সবাইকে আপাতত ধৈর্যধারণ করতে বলা হয়েছে।’
নাহিদ ফরাজী/এএইচ/জেআইএম








