কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘর প্লাবিত হওয়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে ঝর্না (১২) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ রয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ ঝর্না স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার রাইজিংবিডি ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় আব্দুল মালেক তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিলেন। রসুলাবাদ এলাকায় প্রবল স্রোতে নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে পারলেও ঝর্না তলিয়ে যায়।
ইউএনও জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসে কোনো নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল জানান, বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক দিদারুল হক বলেন, “আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পানির গভীরতা ও স্রোত বেশি থাকায় ডুবুরি দলের সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল চাওয়া হয়েছে। আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, “চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। এ দুই উপজেলার ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৬০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েনছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”








