কুড়িগ্রামের উলিপুরে রেলপথের সংস্কার কাজে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবিসহ দুই শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বর্তমানে আহত শ্রমিকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উলিপুরের পূর্ববাজার এলাকার বধ্যভূমির সামনে ওই মারধরের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে উলিপুর রেলস্টেশন থেকে চিলমারীর রমনা স্টেশন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রেলপথের উন্নয়নে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। রেললাইনের দুই পাশে মাটি ভরাট, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সুরক্ষ দেওয়াল নির্মাণ, ৯টি রেলসেতু সংস্কার, পাথর ফেলে কনক্রিটের স্লিপার বসানো ও নতুন লাইন স্থাপন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেই কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ম্যানেজার রুবেল হোসেন জানান, সংস্কারকাজ চলমান অবস্থায় স্থানীয় এনামুল হক, রুবেল মিয়া, মশিউরসহ ১০-১২ জন যুবক এসে চাঁদাদাবি করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আরাফাত ও মেহেদীকে পিটিয়ে আহত করে। তারা শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এর আগেও তারা কয়েকবার চাঁদা দাবি করেছিল।

আহত শ্রমিক আরাফাত ও মেহেদী হাসান বলেন, ১০-১২ জন স্থানীয় যুবক এ চাঁদা দাবি করেন। আমরা অস্বীকৃতি জানালে তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে মারধর করে এবং মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ট্রেনের যাত্রী মমিনুল ইসলাম, কাশেম মিয়া, আব্দুল জলিলসহ অনেকেই জানান, কুড়িগ্রামে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে উলিপুর রেল স্টেশনের এসে শুনি ট্রেন বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক মুঠোফোনে দাবি করেন, ’আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে শ্রমিকরা উত্ত্যক্ত করে আসছিল। প্রতিবাদ করায় তারা উলটো আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করছে।’

উলিপুর স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম জানান, সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকের সমস্যা হয়েছে। এ কারণে ’পার্বতীপুর টু রমনা’ কমিউটার ট্রেনটি বৃহস্পতিবার ’কুড়িগ্রাম টু রমনা’ চলাচল বন্ধ রয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর লেখার সময় ট্রেন বন্ধ ছিল বলে জানা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম বলেন, আহত দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন।

উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আমরা ছায়া তদন্ত করছি। সার্বিক বিষয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

লালমনিরহাট রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, উলিপুরের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।