বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক বলে কথা। তারা যদি দাপট দেখিয়ে না খেলে, তাহলে কী করে হয়! প্রসঙ্গটা যে মেক্সিকোকে নিয়ে, সেটা অনেকেই ধরতে পেরেছেন। চার ম্যাচের চারটিতে জিতে তারা কেটেছে শেষ ষোলোর টিকিট।

বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৭টায় আসতেকা স্টেডিয়ামের মেক্সিকো-ইকুয়েডর শেষ বত্রিশের ম্যাচ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে সতর্কতাবশত কাউকে মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে ১ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছে নকআউট পর্বের এই ম্যাচ। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকো কেটেছে শেষ ষোলোর টিকিট।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইকুয়েডরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে মেক্সিকো। আসতেকায় ৪ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকানরা। রাউল হিমেনেস পাস বাড়িয়ে দেন হিলবের্তো মোরার উদ্দেশ্যে। এরপর মোরার পাস রিসিভ করে হেসুস গায়ার্দো এগোতে থাকেন ইকুয়েডরের লক্ষ্য বরাবর। তবে লাতিন আমেরিকার দলটির ডিফেন্ডার হোয়েল ওরদোনিয়েস বুক দিয়ে ঠেকিয়েছেন।

বারবার ইকুয়েডরের রক্ষণদুর্গে হানা দিয়েও গোল আদায় করে নিতে পারছিল না মেক্সিকো। কখনো বারে লেগে, কখনোবা ফিনিশিং দুর্বলতায় লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি স্বাগতিক ফুটবলাররা। আবার কখনো ইকুয়েডর গোলরক্ষক এরনান গালিন্দেস প্রতিহত করেছেন দারুণভাবে। একের পর এক আক্রমণ করে অবশেষে মেক্সিকো সফল হয় ২২ মিনিটে। এদসন আলভারেসের রক্ষণচেড়া পাস রিসিভ করেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এরপর রবের্তো আলভারাদোর সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে লক্ষ্যভেদ করেন কিনিয়োনেস।

প্রথম গোলের ১০ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যায় মেক্সিকো। এবারও সেই কিনিয়োনেস। তবে তাঁর পা থেকে নয়। এবার তিনি গোল করিয়েছেন। তাতে দায় আছে ইকুয়েডরের দুর্বল রক্ষণের। ৩১ মিনিটে দলটির ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচোর ভুল পাস চলে যায় মেক্সিকোর রাউল হিমেনেসের কাছে। তারপর কিনিয়োনেসের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করতে থাকেন হিমেনেস। ১০ গজ দূর থেকে দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন হিমেনেস।

প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে ইকুয়েডর। ৪১ মিনিটে দলটির মিডফিল্ডার জন ইয়েবোয়াহ পেনাল্টি এলাকা থেকে বাঁকানো এক শট নেন। তবে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেল উড়ে দুই হাত দিয়ে গোল প্রতিহত করেছেন। প্রথমার্ধ মেক্সিকানরা শেষ করে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখে মেক্সিকো। ৬৭ মিনিটে মেক্সিকানরা তৃতীয় গোল করতেই পারত। রবের্তো আলভারাদোর পাস রিসিভ করে ৮ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন সেসার মন্তেস। তবে ইকুয়েডর গোলরক্ষক এরনান গালিন্দেস এক হাত দিয়ে গোল ঠেকিয়েছেন।