অতি ভারী বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে লাইটার জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদী ও পতেঙ্গা উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে। তবে বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ডে কনটেইনার লোড, আনলোড এবং ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত চার থেকে পাঁচদিন ধরে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস প্রায় বন্ধ রয়েছে। লাইটার জাহাজগুলোকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। কিছু জাহাজ কর্ণফুলী নদীর উজানে রয়েছে, আর যেগুলো নদীতে প্রবেশ করতে পারেনি সেগুলো পতেঙ্গা উপকূলে অবস্থান করছে। একটি লাইটার জাহাজ পতেঙ্গা উপকূলের পাথরে আটকে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বহির্নোঙরের উদ্দেশ্যে আসা লাইটার জাহাজগুলোকে হাতিয়া ও চাঁদপুর এলাকায় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সেগুলো গন্তব্যে যাবে।”
পারভেজ আহমেদ বলেন, “বৈরী আবহাওয়ায় বড় জাহাজের ক্যাপ্টেনরা নিরাপত্তার কারণে লাইটারিংয়ের অনুমতি দেন না। এতে পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জাহাজ দুর্ঘটনা ও নাবিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন বিডব্লিউটিসিসির সিরিয়ালে ৮০ থেকে ৯০টি এবং বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের আরো ৩০ থেকে ৪০টি লাইটার জাহাজ বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করে।”
বন্দর সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বহির্নোঙরে ৫৫টি জাহাজ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ৫২টি জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। শুধু একটি ক্লিংকারবাহী জাহাজ ও দুটি অয়েল ট্যাংকারে সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস হয়েছে।
একই সময়ে বন্দর থেকে ২ হাজার ৬০৬ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, যা আগের দিনের ৩ হাজার ৬৭৫ টিইইউএসের তুলনায় কম। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫ হাজার ২৩০ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ব্যাহত হলেও যেসব পণ্য বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, সেগুলোর সীমিত খালাস চলছে।”
তিনি জানান, অতিবৃষ্টির সময় জোয়ারের কারণে কিছু ইয়ার্ডে সাময়িকভাবে পানি জমলেও ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তা নেমে যায়। বন্দরের জেটি, ইয়ার্ডে লোড, আনলোড ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।








