জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে উড়োজাহাজে করে চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কেউ একজন। শনিবার রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী নিজেই এমন উপহার পাওয়ার কথা জানান। তবে ফুল পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা। কে সেই ব্যক্তি, যিনি পরীমনির জন্য এত দূর থেকে উড়োজাহাজে শিউলি ফুল পাঠালেন? এই আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়ও। রসিকতা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেই পোস্টের মন্তব্যে পরীমনি তার জবাবও দিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে ফেসবুকে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘২ মণ শিউলি ফুল দরকার। ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায়!’ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের এক নারী। উড়োজাহাজে করে ঢাকায় পাঠান শিউলি ফুল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমন ভালোবাসার কথা জানিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন পরীমনি। তবে তখনো জানাননি, কে পাঠিয়েছেন এত ফুল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছিল পরীমনির ৩৪তম জন্মদিন। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাছের বন্ধু, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে জন্মদিন উদ্যাপন করেন তিনি। পুরো আয়োজনেই ছিল শিউলি ফুলের ছোঁয়া। রেস্তোরাঁর সিঁড়ি সাজানো হয় শিউলি ফুল দিয়ে। পরীমনি নিজেও পরেছিলেন শিউলি ফুলের নকশা করা শাড়ি। সাজসজ্জা থেকে পোশাক—সবকিছুতেই ছিল একই ভাবনা।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরীমনি বলেন, ‘শিউলি ফুলের কথা মাথায় রেখেই সব করেছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম, কেউ আমাকে অনেকগুলো শিউলি ফুল এনে দাও। কিন্তু এটা আসলে সম্ভবও না। এই ফুল চার-পাঁচ ঘণ্টাও ঠিক রাখা যায় না। কিন্তু একজন আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইটে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছে।’
পরীমনির ইচ্ছা ছিল, পুরো আয়োজনকে শিউলি ফুলের বাগানের মতো সাজাবেন। কিন্তু ফুলের স্বল্পস্থায়িত্বের কারণে সবটুকু কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই সাজসজ্জার পাশাপাশি নিজের পোশাকেও শিউলি ফুলের আবহ রেখেছিলেন তিনি।

জয়ের রসিকতায় রহস্য
পরীমনির জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে ফুল আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে রসিকতা করেন শাহরিয়ার নাজিম জয়।
জয় তাঁর পোস্টে লেখেন, পরীমনির প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে চট্টগ্রামের ধনী পরিবারের স্ত্রীদের অনেকেই হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কোন স্বামী পরীমনির জন্য এত শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন?
রসিকতা সেখানেই থামাননি জয়। তাঁর কথায়, ফুল পাঠানো ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে অনেকে হয়তো তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করবেন। তবে জয় চান, ওই ব্যক্তি যেন ধরা না পড়েন। নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মজার ছলে জানান, তিনিও অনেককে শিউলি ফুল দিয়েছেন, কিন্তু ধরা পড়েননি। তাঁর ভাষায়, ‘এক পাপী আরেক পাপীর পক্ষ নেবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’
একই পোস্টে পরীমনির প্রশংসাও করেন জয়। তাঁর মতে, পরীমনি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। চলচ্চিত্র অঙ্গনকে তিনি নিজের আপন জায়গা মনে করেন। শুধু প্রচারণা কিংবা সংবাদ সম্মেলনের জন্য নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেও চলচ্চিত্রের মানুষদের ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। পোস্টের শেষে পরীমনিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
তবে জয়ের পোস্টে মন্তব্য করে ফুল পাঠানোর রহস্যের একটি অংশ পরিষ্কার করেন পরীমনি। জানান, চট্টগ্রাম থেকে শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কোনো পুরুষ নন, একজন নারী। ফলে জয়ের রসিকতারও জবাব মেলে। যদিও ওই নারীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী।
জন্মদিনে নতুন সিনেমার চমক
শুধু শিউলি ফুল নয়, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমার খবর দিয়েও চমকে দেন পরীমনি। জানান, ‘ফারজানা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘জন্মদিনে একটা সারপ্রাইজ আছে। আমার মনে হয়, আপনারা আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন। তাই উত্তর ঠিক করে এসেছি। আমার মনে হলো, এটা সুন্দর সময়। এখানে কাজ নিয়েও কথা বলা যায়।’
সিনেমাটির প্রস্তুতি ও শুটিংয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা ছয় মাস আগেই লুক ঠিক করেছি। কাজ করতে যাওয়ার সময় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। সিনেমাটির শুটিং চলছে। কিছু কাজ বাকি আছে। বাকি কাজ শেষ করে জানাব।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক তারেক রহমানও। তিনি জানান, ‘ফারজানা’ সিনেমায় পরীমনিকে সংগ্রামী এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। পরিচালক বলেন, ‘আমরা সুন্দর একটা জার্নি শুরু করতে যাচ্ছি। পরীমনির চরিত্রটি স্ট্রাগলিং একজন নারীর। আশা করি, জার্নিটা সুন্দর হবে। আপনারা নতুন পরীমনিকে আবিষ্কার করবেন।’
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান ভালো কাজ দিয়েই দিতে চান তিনি।
পরীমনি বলেন, ‘শুরু থেকেই সবাই আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, আশীর্বাদ করেছেন; সবকিছু ছাপিয়ে আমাকে ভালোবেসেছেন, সেই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এর বিপরীতে আমি সুন্দর সুন্দর কাজ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারব না। সেটাই যেন করতে পারি, দোয়া করবেন।’








