চট্টগ্রামে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। সরবরাহ কমার অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই। অন্যদিকে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বস্তাপ্রতি চালের দাম একশ থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সবজির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও ডাল, আটা ও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করছে না।

চট্টগ্রাম নগরীর একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, তিন দিন আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়। আবার কিছু কিছু অভিজাত এলাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা দরে। অন্যদিকে সোনালি মুরগি মানভেদে কেজিপ্রতি ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৩২০ টাকা ছিল।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মুরগির সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এজন্য দাম বেড়েছে। তবে কী কারণে কমে গেছে তাদের জানা নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শ কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম জাতভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া পেঁপে ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, দেশি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া প্রতিপিস চালকুমড়া, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে মসুর ডাল ও অ্যাঙ্কর ডালের। কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। মোটা দানার মসুর ডালের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর যা ছিল ৮০ টাকা, এখন তা ১০০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে অ্যাঙ্কর ডাল গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকা কেজিদরে। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। অর্থাৎ এ পণ্যে এক বছরে বৃদ্ধি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। আটা ও সয়াবিন তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। দুদিন আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকায়। শুক্রবার তা বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে। রুই ২৬০ থেকে ৩৬০ টাকা, কাতল ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, মৃগেল ২০০-২৫০ টাকা, আকারভেদে পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ের একাধিক চাল ব্যবসায়ী জানান, পরিবহণ মালিকরা ট্রাক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন গুদাম থেকে চট্টগ্রামে চাল পরিবহণ করতে ট্রাক ভাড়া বাবদ খরচ হতো ১৭ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা। এই ভাড়া এখন ২৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চাল পরিবহণে ট্রাক ভাড়া ছিল ২২ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা। এখন ট্রাক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৪০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল পরিবহণে ট্রাক ভাড়া ছিল ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। এই ভাড়া এখন দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বা টেকনাফ রুটেও চাল পরিবহণে এখন দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

চাল ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধির কারণে চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকার বেশি বেড়েছে।