দিনদুপুরে দলবেঁধে এসে ব্যস্ততম বাজারে গুলি করে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা, বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা—এসব ঘটনা মনে হতে পারে কোনো সিনেমার দৃশ্য। তবে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে চলছে চট্টগ্রামে।
খুন-অস্ত্রবাজির এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা সবাই বিদেশি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী বলে দাবি পুলিশের। দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও তাঁদের লাগাম টানতে পারছে না পুলিশ। এতে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বাকলিয়া, বায়েজিদ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কে দিন কাটছে।
পুলিশ জানায়, পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান বিদেশে বসে চট্টগ্রামে খুন, চাঁদাবাজির নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গড়ে তুলেছেন অর্ধশতাধিক সক্রিয় সদস্যের বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। প্রযুক্তির ব্যবহারেও এগিয়ে থাকা, পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা তৈরির কারণে বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের ধরা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, দিনদুপুরে অতর্কিতে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার পর পাহাড়ের নিরাপদ আস্তানায় গা ঢাকা দেন সন্ত্রাসী বাহিনীটির সদস্যরা।
পেয়ারুল হক চৌধুরী, নিহত মাসুদুলের বড় ভাই।এক মাস হলেও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আমার ভাইকে হত্যার বিচার কি পাব না? কারা অস্ত্রধারীদের পাঠিয়েছেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করতে হবে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বড় সাজ্জাদের সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অনন্যা আবাসিক ও বায়েজিদ সীমানা-সংলগ্ন কুয়াইশ এলাকায় ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় মো. আনিস ও মাসুদ কায়সার নামের দুই যুবককে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয় বায়েজিদ ও হাটহাজারী থানায়। পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বিরোধের জেরে সাজ্জাদের সহযোগীরা ওই দুই যুবককে খুন করেন। মামলা দুটিতেই সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে। দুই যুবককে খুনের ঘটনার পর থেকেই একের পর এক হত্যা, চাঁদাবাজি, গুলি করা, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ আসতে থাকে সাজ্জাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
প্রকাশ্যে খুন
গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। এই ঘটনায় মাসুদুলের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদ রায়হান, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মেহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধরা পড়ে ওই এলাকায় থাকা কিছু সিসি ক্যামেরায়। ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদুল হক দৌড়াচ্ছেন, পেছনে অস্ত্রধারীরা। হঠাৎ পাহাড়তলীর চৌমুহনী বাজারের একটি দোকানের সামনে রাখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান মাসুদুল। এ সময় পেছনে থাকা অস্ত্রধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি করতে থাকেন। প্রথম দফায় গুলি করে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পুনরায় এসে গুলি করা হয়। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চলে যান সন্ত্রাসীরা। বাজারে দিনদুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি।
মাসুদুলকে হত্যার ঘটনায় মামলা করেন তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক মাস হলেও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আমার ভাইকে হত্যার বিচার কি পাব না? কারা অস্ত্রধারীদের পাঠিয়েছেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করতে হবে।’
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্ত্রাসী দুই হাতে দুটি পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজনের হাতে ছিল সাব মেশিনগান (এসএমজি), একজনের কাছে চায়নিজ রাইফেল এবং আরেকজনের কাছে শটগান। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুরের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই গুলি চালানো হয়।
গত ৮ মে রাত দশটার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় হাসান রাজু নামের এক যুবককে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে এর আশপাশে সব বাড়িঘর। মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের রৌফাবাদ থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিমে এলাকাটি। সরু গলি দিয়ে একটি কলোনির ৮০০ গজ ভেতরে গিয়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা হাসান রাজুকে হত্যা করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি। পরনে প্যান্ট ও টি-শার্ট। সবার হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র। গলির ভেতরে লোকজনের সামনেই সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে ‘ধর, ধর...’ বলে তাড়া করেন হাসান রাজুকে। পালাতে থাকা রাজুকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন মুহুর্মুহু গুলি। দৌড়ানোর এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হাসান রাজু। তখন তাঁকে পা দিয়ে চেপে ধরেন অস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তিরা। হত্যা করেন মাথায় গুলি করে। এরপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা চলে যান বীরদর্পে। হাসান রাজুকে গুলি করার ঘটনা কলোনির বাসিন্দাদের সামনে ঘটলেও কেউ ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি।
পুলিশ জানায়, রাউজানের একটি হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে পরিকল্পিতভাবে রাজুকে খুন করা হতে পারে। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী ও পলাতক সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগর ও রাউজানের অন্তত ১৪টি খুনের ঘটনায় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানের নাম উঠে এসেছে।

নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে গত বছরের ২৯ মার্চ সরোয়ার হোসেন নামের একজনকে লক্ষ্য করে প্রাইভেট কারে গুলি করা করা হয়। এ সময় প্রাইভেট কারটিতে সরোয়ারের সঙ্গে থাকা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ভাগ্যক্রমে সরোয়ার বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। ৩ নভেম্বর নগরের পাঁচলাইশ চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগের সময় ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় সরোয়ার হোসেনকে। এর আগে ২৩ মে আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর নামের আরেকজনকেও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে গুলিতে খুন করা হয়েছে। নিহত সরোয়ারের ভাই আজিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরোয়ারকে গুলি করা বাঁ হাতি সেই শুটারকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বড় সাজ্জাদ আমাদের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
পুলিশি পাহারার মধ্যেও ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই সময় বাসাটিতে পুলিশের পাঁচ সদস্য পাহারায় ছিলেন। গুলিতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে যায়। এর আগে ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্ত্রাসী দুই হাতে দুটি পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজনের হাতে ছিল সাব মেশিনগান (এসএমজি), একজনের কাছে চায়নিজ রাইফেল এবং আরেকজনের কাছে শটগান। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুরের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই গুলি চালানো হয়।
হাসান মো. শওকত আলী, পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম নগর পুলিশ।আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যে পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদ বাহিনীর কিছু সদস্যকে ধরেছে। বাকি সদস্যদের ধরতেও পুলিশ কাজ করছে।চাঁদা না পেলেই গুলি
খুন ছাড়াও নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে আসছেন বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা। বিশেষ করে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। আগে বড় সাজ্জাদের দলটির দেশে নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। প্রকাশ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসিকে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার শপিং মল থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। কিন্তু সাজ্জাদকে দফায় দফায় বিভিন্ন মামলায় ৪২ দিন রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি। অথচ অস্ত্র হাতে সাজ্জাদের একাধিক ভিডিও রয়েছে।
ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, সাজ্জাদের বাহিনীতে ৫০ জনের বেশি সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর দেশে বাহিনীর হাল ধরেছেন মোবারক হোসেন ইমন, মোহাম্মদ রায়হান ও বোরহান উদ্দিন।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে একজন তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’ আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুয়াইশ রোডের উত্তরা হাউজিং এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গুলি করেন ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী। ওই সময় তাঁরা নির্মাণশ্রমিকদের সাজ্জাদের লোক পরিচয় দেন। তাঁরা আগেও দুবার নির্মাণাধীন ওই জমিতে হামলা করেছিলেন। চাঁদা না পেয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলির ঘটনায় জমির মালিকদের পক্ষ থেকে জহিরুল ইসলাম নামের একজন বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি।’

চাঁদা না পেয়ে মো. হাছান নামের এক ঠিকাদারের বাসায়ও গুলি করেন সাজ্জাদের অনুসারীরা। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও হাজীরপুল এলাকার বাসায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় হাছান বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত বছরের ২০ আগস্ট হাটহাজারীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বাড়িতেও গুলি করা হয়। এই ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা সবাই বড় সাজ্জাদের সহযোগী। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর নগরের পাঁচলাইশ হামজারবাগ এলাকার নূর মোহাম্মদের মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ভবনে আসেন সন্ত্রাসীরা। ওই সময় তাঁরা অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করতে থাকেন। এই ঘটনায় করা মামলায় মো. দিদার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি সাজ্জাদের সহযোগী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চাঁদাবাজি, খুনে জড়িত নই। উল্টো সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল। তার বিচার এখনো পাইনি।’
জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যে পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদ বাহিনীর কিছু সদস্যকে ধরেছে। বাকি ব্যক্তিদের ধরতেও পুলিশ কাজ করছে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে থানা-পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ শাখারও সন্ত্রাসীদের নজরদারিতে রাখা উচিত। এ জন্য পুলিশের সোর্সকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সন্ত্রাসীদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।






