চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমের রেকর্ড ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের মধ্যেও জলাবদ্ধতায় জনভোগান্তি কমাতে মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০১ সদস্যের র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মেয়র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কাতালগঞ্জ, টাইগারপাস, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মেয়র বলেন, চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পাচ্ছে। তবে হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও গুলজার খালের কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় এখনও সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বর্ষা শেষে এসব কাজ সম্পন্ন হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
তিনি জানান, কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ এলাকার পানি হিজড়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। এলাকাটি নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে অল্প সময়ের জন্য পানি জমলেও সাধারণত এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে তা নেমে যায়।
মেয়র বলেন, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, বৃহত্তর বাকলিয়া, চকবাজার, কোতোয়ালি, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, আকবরশাহ, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা হয়নি, যা চলমান উন্নয়নকাজের ইতিবাচক ফল।
তিনি আরও বলেন, ৪০টি খালের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে লালখান বাজারে উপড়ে পড়া গাছ এবং এয়ারপোর্ট রোডের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন মেয়র।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠান শেষে প্লাস্টিক, ককশিটসহ বিভিন্ন বর্জ্য নালা-নর্দমায় ফেলছে। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মেয়র ১০১ সদস্যের র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠনের ঘোষণা দেন। এতে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই দল তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করবে। জরুরি সহযোগিতার জন্য রেড ক্রিসেন্টের হটলাইন ০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মেয়র বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।








