পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি হাসপাতাল ও দুইটি বেসরকারি স্কুলে পার্কিং সংকট, নকশা লঙ্ঘনসহ নানান অনিয়ম দেখতে পেয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর পাঁচলাইশের পার্কভিউ হাসপাতাল, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেল্টা হাসপাতাল, ডক্টরস হাসপাতাল, সার্সন রোডের চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল-সিজিএস (চট্টেশ্বরী ক্যাম্পাস) এবং জামালখানের চট্টগ্রাম আইডিয়াল হাই স্কুল পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম পান তিনি।

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং ব্যবস্থা, ড্রপিং বে, অনুমোদিত নকশা এবং ভবনের ব্যবহার যাচাই করতে সিডিএ চেয়ারম্যান এ পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন

বিপিসিজুড়ে হঠাৎ অস্থিরতা

সিডিএ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগরীর পার্কভিউ হাসপাতাল পরিদর্শনে সিডিএ চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তারা দেখতে পান, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ড্রপিং বে ২০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ১৫ ফুট, ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় রোগীদের যানবাহনের ব্যবহার খুবই সীমিত ছিল। সেখানে সিলিন্ডার ও অফিসের বিভিন্ন মালামাল সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। সিডিএ’র পক্ষ থেকে এসব সামগ্রী অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে পার্কিংয়ে প্রবেশ করতে পারে, সে লক্ষ্যে পার্কিং চিহ্ন, দিকনির্দেশনা এবং টোকেন ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংলগ্ন ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অনুমোদিত নকশাসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হলেও পরিদর্শনের সময় কেউ নকশা উপস্থাপন করতে পারেননি।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি চউকের আবাসিক প্লটের মধ্যে নির্মিত এবং হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। পার্কিং ব্যবস্থাপনায় কোনো নির্দেশনা বা চিহ্ন নেই এবং মাত্র দুই-তিনটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পার্কিং এলাকায় সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়।

কাতালগঞ্জের ডেল্টা হাসপাতালে পরিদর্শন টিম দেখতে পান, হাসপাতালটির অনুমোদন আবাসিক ভবনের জন্য। আবাসিকের জন্য অনুমোদিত নকশায় ২০টি পার্কিং স্থানের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাত্র তিন থেকে চারটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া কোনো ড্রপিং বে পাওয়া যায়নি।

সংলগ্ন ডক্টরস হাসপাতালেও কোনো পার্কিং সুবিধা নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে থেকে অবহিত না করায় তারা অনুমোদিত নকশা উপস্থাপন করতে পারেনি। এখানে কোনো ড্রপিং বে নেই, সেটব্যাক ও রাখা হয়নি।

সার্সন রোডের সিজিএস চট্টেশ্বরী ক্যাম্পাস পরিদর্শনে দেখা যায়, আবাসিক ভবনে পরিচালিত এ ক্যাম্পাসের অনুমোদিত নকশায় ২৬টি পার্কিং স্থানের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাত্র একটি পার্কিং স্থান রয়েছে।

jagonews24

অন্যদিকে জামালখান সড়কের চট্টগ্রাম আইডিয়াল হাই স্কুলে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। পার্কিং এলাকায় স্কুলের নিজস্ব মাইক্রোবাস রাখা দেখা যায়। এ সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে স্কুল বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিদর্শন শেষে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, সব প্রতিষ্ঠানকে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্কুল বাস চালু এবং সম্ভব হলে স্থায়ী ও উপযুক্ত ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল মালিক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিয়ে বসব। এই শহরকে বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

এমডিআইএইচ/এমআরএম