চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। সাম্প্রতিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের পর এবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দামের পেঁয়াজ চার দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বিশেষ করে সবজির দাম এখন আকাশচুম্বি। ১০০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি। ৪০ টাকার পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিদরে। সবজির পাশাপাশি বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দামও।
ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে অস্থির হচ্ছে বাজার। পণ্যের দাম কমা দূরের কথা, সরকার নির্ধারিত দাম শুধুই কাগজে-কলমে। বেশির ভাগ পণ্যই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে পেঁয়াজ আসতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া দেশি পেঁয়াজের সরবরাহও আগের চেয়ে কমেছে। আড়তদাররা জানান, স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি নেই বললেই চলে।
শুক্রবার কাজীর দেউড়ী, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পাইকারি বাজারে পাঁচ কেজির এক পাল্লা ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।
পেঁয়াজের আড়তদার কামরুল হুদা জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মোকাম থেকে চট্টগ্রামে পরিবহণেও বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় গুদামে পানি ঢুকে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শঙ্খ নদীর চরাঞ্চল। এই এলাকাটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন এলাকা। দোহাজারী, সাতকানিয়ার খাগরিয়া ও ছদাহা এবং বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বহু কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক জমিতে বালু জমে যাওয়ায় দ্রুত চাষাবাদ শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৯০০ হেক্টর সবজি, ৭০ হেক্টর পেঁপে এবং প্রায় ৬০ হেক্টর অন্য ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকরা জানান, বাজারজাতের উপযোগী ফসল বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সবজির বাজারে আগুন
বন্যার পর থেকে চট্টগ্রামে সবজির বাজারে আগুন। দুই সপ্তাহ আগে পটোলের কেজি ছিল ৩৫-৪০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। বেশির ভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি। ঢ্যাঁড়শ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন জাতভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
দেশি শসা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আকারভেদে লম্বা লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। দুসপ্তাহ আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন মানভেদে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা।
অস্থির মাছের বাজার
মাছের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ও তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা; কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চাষের কই মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। আকারভেদে চিংড়ি ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।








