চট্টগ্রাম নগরীতে ২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ। দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে গত ৯ বছর ধরে চলছে কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) দুটি, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে মোট চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। এরই মধ্যে খরচ হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। তবুও ভারি বৃষ্টি হলেই কোমর ও বুকসমান পানিতে ডুবছেন নিম্নাঞ্চলের নগরবাসী। এদিকে চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতা ৮০-৯০ শতাংশ কমেছে বলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন দাবি করেছেন। মঙ্গলবার নগরীর বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন তিনি। বর্ষণে জলাবদ্ধতা ও প্রকল্প কাজের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং করতে জরুরি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার অবসান হবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে চউকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। এরই মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের উন্নয়ন, ১৬৩ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ১১৪টি ব্রিজ কালভার্ট, ৬টি রেগুলেটর, ২১টি সিল্ট ট্র্যাপ, নতুন খাল খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মহসিন বলেন, ৫ জুলাই থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পতেঙ্গা ও আমবাগান আবহাওয়া উপকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৮৩ সালে সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। প্রকল্পটি ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে ডিজাইন করা হলেও এবারের বৃষ্টিপাত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল। তারপরও অধিকাংশ এলাকার পানি দ্রুত নেমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবর্তক মোড়ে কাজ বন্ধ করে খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আর পানি জমেনি। তবে একই খালের কাতালগঞ্জ, কার্পাসগোলা, মুরাদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে দুই থেকে আড়াই ফুট পানি উঠেছিল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সেসব এলাকার পানি নেমে যায়। এটিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়, বরং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক ‘ফ্ল্যাশ ওয়াটার’ হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে কর্নেল মহসিন জানান, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে ১২১টি জলাবদ্ধতার স্থান ছিল, যেখানে পানি নামতে ৩৫ থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগত। প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে ২০২৪ সালে তা কমে ৬১টিতে এবং ২০২৫ সালের শেষে ১৭টিতে নেমে আসে। বর্তমানে ওই ১৭টি স্থানের মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে।








