টানা চারদিনের ভারী বর্ষণ শেষে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি এবং রিয়াজউদ্দিন বাজার ও চাক্তাই খাতুনগঞ্জের মতো বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্রে পানি ঢুকে বিপুল মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে নগরীর বেশিরভাগ সড়ক। তবে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের আকাশে রোদ উঠেছে। এরপর বিকালে আবারও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি নামে।
এদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জলবায়ুর প্রভাবের কারণে এখন রেকর্ড বৃষ্টি হচ্ছে। একদিনে ৪০০-৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড নতুন করে ভাবাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মাথায় রেখেই নতুন করে নগরীকে সাজাতে হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের বৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, টেরিবাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। করপোরেশনের আওতাধীন কয়েকশ কিলোমিটার প্রধান সড়ক ও অলি-গলির টানা বৃষ্টিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কিছু প্রধান সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠে কাজ করছেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা হয়েছে বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাপাসগোলা, চকবাজার, বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা, ফিরিঙ্গিবাজারের একাংশ, কাতালগঞ্জ, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, কে বি আমান আলী রোড, চান্দগাঁওয়ের শমসের পাড়া, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, ফরিদার পাড়া, পাঠাইন্যাগোদা, মুন্সী পুকুরপাড়, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, কাতালগঞ্জ আবাসিক, আগ্রাবাদ দাইয়াপাড়াসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। এসব এলাকার বাসাবাড়ির নিচতলা তলিয়ে গেছে। দু-তিনদিন ধরে রান্না-বান্না ও প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়ে অন্তঃহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দাদের। বৃষ্টির সঙ্গে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে জোয়ারের পানি। এতে আগ্রাবাদ, বন্দর, ইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। যেখানে আগে হাঁটু পানি উঠতো সেখানে এবার কোমর সমান পানি উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ পুরো চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কয়েকদিন ধরে অধিকাংশ নিচু এলাকার মানুষ পানিবন্দি থাকায় তেমন ব্যবসা-বাণিজ্য হয়নি। এখানকার ভোগ্যপণ্যের বড় মোকামগুলোর সঙ্গে ক্রেতাদের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ। শুধু ভোগ্যপণ্যই নয়, অন্যান্য ব্যবসায়ও একই অবস্থা দেখা দিয়েছে। পচনশীল পণ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চকবাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, আমার দোকানে পানি ঢুকে কয়েক লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।








