চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে দুর্গত এলাকার প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহ ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শুক্রবার ও শনিবার (১০-১১ জুলাই) চবির বাঁশখালী স্টুডেন্ট ফোরামের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১ হাজার বানভাসি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চিড়া, মুড়ি, গুড়, খেজুর, বিস্কুট, চানাচুর, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী, মোমবাতি, গ্যাসলাইটার, স্যালাইন ও বিশুদ্ধ খাবার পানি।

এদিকে, বাঁশখালীর বন্যার্ত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে চবির বাঁশখালী স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলার কাথরিয়া, বাগমারা, বরইতলী, ডিগ্রিপাড়া ও পশ্চিম মানিক পাঠান এলাকায় বন্যাকবলিত প্রায় ৪০০ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেন সংগঠনটির সদস্যরা।

চবির শহিদ আবদুর রব হল সংসদের ভিপি ও বাঁশখালী স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ বুরহান উদ্দিন বলেন, “আমাদের বাঁশখালী আজ ভালো নেই। স্মরণকালের এ ভয়াবহ বন্যায় উপকূলীয় এ অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আশ্রয় আর খাবারের অভাবে মানুষদের নাভিশ্বাস উঠেছে।”

তিনি আরো বলেন, “গতকাল ও আজ দুপুর পর্যন্ত আমাদের উন্মুক্ত ফান্ড কালেকশন হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের ফান্ড সংগ্রহ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

চবির বাঁশখালী স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক সাঈদ হোসাইন বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪০০ মানুষের কাছে আমরা রান্না করা বিরিয়ানি ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দিয়েছি। বিপুল সংখ্যার তুলনায় আমাদের এ সাহায্য কিছুই না। সবার সহায়তায় আমরা চেষ্টা করেছি।”

তিনি বলেন, “আমাদের ফান্ড কালেকশন হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ফান্ড সংগ্রহ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”