দেখতে দেখতে বিজ্ঞানচিন্তা ১০ বছর পেরিয়ে গেল। ১৫ অক্টোবর, বুধবার কারওয়ান বাজারে প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবনের ১০ম তলায়, প্রথম আলো সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন। এতে দেশের সেরা গবেষক, বিজ্ঞান লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, স্বেচ্ছাসেবী ও অতিথিসহ নানা বয়সের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ছবিতে দেখুন সেই অনুষ্ঠানের কিছু অংশ।
বিজ্ঞানচিন্তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একজন পাঠক বিজ্ঞানচিন্তা সম্পর্কে মন্তব্য করছেনবিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘একটি বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন ১০ বছর পূর্ণ করবে, সম্পাদক হয়েও এ কথা আমার আগে বিশ্বাস হয়নি। আমরা শুধু ম্যাগাজিন প্রকাশ করি না, সারা বছর বিজ্ঞান প্রসারে আরও বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করি। বিজ্ঞান উৎসব, বিজ্ঞান বক্তৃতাসহ আরও যেসব আয়োজন আমরা করি, প্রতিটিতেই আমরা আগ্রহী পাঠকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাই। এ জন্য আমাদের পাঠকদের আন্তরিক ধন্যবাদ।’চিকিৎসক ও লেখক তানজিনা হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিজ্ঞানচিন্তার প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বলতে চাই, সবাই বিজ্ঞানী না হলেও প্রত্যেককেই বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে।’বিজ্ঞানবক্তা আসিফ বিজ্ঞানচিন্তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমি নিজে আগে একটি বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশ করতাম সায়েন্স ওয়ার্ল্ড নামে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিজ্ঞানচিন্তা পাঠকদের মধ্যে যে ভারসাম্য তৈরি করেছে, সব বিষয়ে এটি যেভাবে লেখা প্রকাশ করে, তা সত্যিই অসাধারণ।’শিক্ষাবিষয়ক গবেষক ফারহানা মান্নান বলেন, ‘প্রিন্টে যা পড়তে হয়, সে জন্য মনযোগ দিতে হয় আলাদা করে। অনলাইনে সেটা হয় না, মানুষ স্ক্রল করে চলে যান। বিজ্ঞানের ইন্টারেস্টিং অনেক বিষয় আমি প্রিন্ট সংস্করণে পড়ি। সে জন্য আমি বুঝি, এটা শিক্ষার্থীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়, এবং তাদেরকে মননশীল করে তোলে। ১০ বছর ধরে বিজ্ঞানচিন্তা এ কাজ করে আসছে, এ জন্য আমি তাদের আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’কার্টুনিস্ট নাসরিন সুলতানা মিতু রসিকতা করে বলেন, ‘প্রতি বছর আমি ভাবি, আগামী বছরই হয়তো বিজ্ঞানচিন্তা বন্ধ হয়ে যাবে! কিন্তু এই ম্যাগাজিনটা এত পাঠক আগ্রহ নিয়ে পড়েন, এটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আমি কিছু সুপারিশ বা পরামর্শ দিতে চাই। আমি মনে করি, বাংলাদেশের একমাত্র বড় পরিসরের বিজ্ঞান ম্যাগাজিন হিসেবে বিজ্ঞানচিন্তাকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও কাজ করতে হবে, শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা যেন সহজে লেখা পাঠাতে পারে, তাদের কাজগুলো নিয়ে যেন বিজ্ঞানচিন্তা আরও লেখা প্রকাশ করে, সে লক্ষ্যে ম্যাগাজিনটির আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। প্রয়োজনে স্কুল ক্যাম্পেইন চালানো যেতে পারে।’বিজ্ঞান লেখক আব্দুল গাফফার বলেন, ‘বিজ্ঞান নিয়ে অনেকেই বললেন, আমি আরেকটা জিনিস বলতে চাই। দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞানবিষয়ক উদ্যোগকে বিজ্ঞানচিন্তা যেভাবে এক ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে, এক সুতায় সবাইকে গেঁথেছে, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’মাহবুবা সুলতানা ‘সুন্দর, সুবর্ন, তারুণ্য, লাবণ্য’ গান গেয়ে শোনান সবাইকেঅনিক সরকার ও মেঘা খেতান ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে’ গান গেয়ে শোনান সবাইকেঅতিথি ও পাঠকদের নিয়ে কাটা হয় কেকঅনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রওনক জাহান রাকাকুইজে বিজয়ীদের হাতে পুরুস্কার হাতে তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা