বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের এক প্রস্তাবে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে সময় সাশ্রয় হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মঞ্জুর-সংক্রান্ত অবশিষ্ট সব ছাঁটাই প্রস্তাব তিনি একসঙ্গে প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হয়। এ ঘটনায় স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মঞ্জুরের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে মোট ৫৯টি ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে ছিল। এর মধ্যে ৩৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব পর্যন্ত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। তবে প্রতিটি প্রস্তাবই কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং সরকারের মঞ্জুরের প্রস্তাবগুলো বহাল থাকে।

দুপুরের বিরতির পর আড়াইটায় ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো বিরোধীদলের পক্ষ থেকেই আনা হয়েছে এবং এটি সংসদীয় রেওয়াজের অংশ।

তিনি বলেন, ‘রেওয়াজের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, যেহেতু আমাদের প্রস্তাবগুলো গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেহেতু মূল্যবান সময় সাশ্রয়ের জন্য আমরা কি আমাদের দেওয়া অবশিষ্ট ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্যাকেজ আকারে প্রত্যাহার করে নিতে পারি? এতে আমাদের কাজও সহজ হবে এবং সংসদের সময়ও বাঁচবে।’

তার এ বক্তব্যের পর সরকারি ও বেসরকারি দলের সব সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ধন্যবাদ বিরোধীদলীয় নেতা। আমার মনে হয় আপনার প্রস্তাব সরকারি দলের সব সদস্য মেনে নিয়েছি। আপনার প্রস্তাবের কারণে অনেক সময় বেঁচে যাবে। এরপর স্পিকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, আমার মনে হয়, প্রস্তাবগুলো মন্ত্রীরা উত্থাপন করবেন। এরপর সরাসরি প্রস্তাবটি ভোটে দেওয়া হবে।

স্পিকার আবারও বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এতে অনেক সময় বাঁচবে এবং আমার সাক্ষরের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে পারবো। এরপর খুব দ্রুতই কোনো আলোচনা ছাড়াই শুধু হাঁ-না ভোটের মাধ্যমে মন্ত্রীদের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মঞ্জুর হয়ে যায়।

এমওএস/এমএএইচ/