সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী চেলা ও মরা চেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মধ্যবর্তী মরা চেলা (কলাবাগান) এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা চলা এই সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে বালু লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এক সপ্তাহ ধরে চেলা ও মরা চেলা নদীর বালুমহালে নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ (অবৈধ ড্রেজার), শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রভাবশালী একটি চক্র গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেদার বালু উত্তোলন করছে। এই বালু ট্রলারে বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের দিকে পাচার করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের ইজারার শর্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নির্ধারিত এলাকার বাইরেও নদীর তলদেশ ও তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ ঘটনাস্থলটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ দায়িত্ব এড়াতে একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে পড়ায় এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা তথ্য, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হওয়ার হুমকিতে পড়েছে।