বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরদের দায়িত্বকাল এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের তথ্য সংগ্রহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করার অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসাবে সাবেক গভর্নরদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের তথ্য, বড় ঋণ পুনঃতফসিল, একক ঋণসীমা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আংশিক তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুদকের চাহিদামতো কিছু তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

দুদক সূত্র জানায়, দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১১ জুন পাঠানো এ চিঠিতে ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও রেকর্ড সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধান অনুযায়ী জারি করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, একটি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগে সাবেক গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, খেলাপিদের ছাড় দিয়ে নীতিমালা জারি, বিতর্কিত ঋণ, হলমার্ক জালিয়াতি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতার মাধ্যমে গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন নথি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে দুদক ছয় ধরনের তথ্য ও রেকর্ড চেয়েছে।

দুদকের চাহিদা অনুযায়ী, অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ ও বিআরপিডি থেকে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইস্যু করা একক ঋণসীমা এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন সংক্রান্ত সব প্রজ্ঞাপনের সত্যায়িত কপি দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল, ফোন নম্বর, এনআইডি ও পাসপোর্ট নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিজিএমইএ সার্কুলার-০৮/২০২০ অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকের ক্যাপিটাল হিসাবে গণ্য করার সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এ সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা এবং তাদের প্রাপ্ত সুবিধার পরিমাণও দিতে হবে।

এস আলম গ্রুপকে কোনো ব্যাংকের মালিকানা প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপিও চেয়েছে দুদক। একই সঙ্গে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের দায়িত্বকালে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কোনো ব্যাংককে তারল্য সহায়তা (নগদ সহায়তা) দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন বা নোটশিট থাকলে সেটিও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের একজনের দাবি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার তানভীর দোহার রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত অনুসন্ধান কপিও চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।