ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনকে। আজ শুক্রবার সকালে খেপুপাড়া বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভা ছিল। সেখানে যোগ দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে এমপিকে স্বাগত জানায়। পরে তিনি বিদ্যালয়ের ভেতরে আয়োজিত পরিচিতি সভায় অংশ নেন।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা বা অভ্যর্থনা না দেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কলাপাড়ায় ছুটির দিনে এমন আয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল তালুকদার। তিনি সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, সংসদ সদস্যকে খুশি করতেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এ পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে কলাপাড়া শহরের এতিমখানা এলাকায় অবস্থিত খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোশাররফ হোসেনের ছবিসংবলিত একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়।

তোরণের সামনে ঢাকঢোল নিয়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা এবং বিদ্যালয়ের ভেতরের দুই পাশের সড়কে ফুল হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে তারা।

মোশাররফ হোসেন ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতারা বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা ঢাকঢোল বাজানো শুরু করে। পরে তিনি বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করলে তাঁকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘এমপি মহোদয়ের আগমনে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সাইক্লোন শেল্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু, পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি, খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন রেজা, কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অন্যান্য কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

একজন অভিভাবক বলেন, ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে এনে দাঁড় করিয়ে অভ্যর্থনা দেওয়া ঠিক হয়নি। খোলার দিনে এমন আয়োজন করা যেত। এ ছাড়া যতটুকু শুনেছি, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে এমন আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। সেখানে এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ না করে তাদের জন্য একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন রেজা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে আলিম পরীক্ষা চলে। আগামীকালও পরীক্ষা আছে। তাই আজকে ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভা করা হয়েছে।’

বিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের এনে দাঁড় করিয়ে অভ্যর্থনা দেওয়া নিষিদ্ধ, তবুও কেন আয়োজন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহসিন রেজা কোনো মন্তব্য করেননি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজল তালুকদার ও সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনকে ফোন দিলে তাঁরা রিসিভ করেননি।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত ১৪ মার্চ চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রোদে বা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করতে পারবে না।’