সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে ব্যর্থতার দায় স্থানীয় প্রশাসনকেও নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। চোরাচালান বন্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে আগামী ১ আগস্ট থেকে সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত চিরুনি অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে চোরাই পণ্য বা গরু-মহিষের চালান সীমান্ত অতিক্রম করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। থানা কিংবা প্রশাসনিক কার্যালয়ের একেবারে সামনে দিয়ে যদি চোরাচালানের গাড়ি ঢুকে যায় এবং তা দেখেও চোখ বন্ধ রাখা হয়, তাহলে এবার সেই দায় এড়ানো যাবে না। এ ধরনের ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট ওসি-ইউএনওর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্তে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। জুলাই মাসজুড়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে ১ আগস্ট থেকে পূর্ণাঙ্গ অভিযান শুরুর কথা জানান তিনি।
এর আগে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বি ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠক আয়োজনেরও তাগিদ দেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষও এই নজরদারিতে অংশ নিতে পারেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের নিয়ে বসতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করে জনগণকেও এই পাহারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, সীমান্তে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসলে তার সুফল পড়বে সামগ্রিক জনজীবনে। প্রবাসীরাও তখন নিরাপদে দেশে ফিরে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। পরিস্থিতির উন্নতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক।








