চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দুই যুগের পানি সমস্যা সমাধানে রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে রাউজান পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন করে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। আজ মঙ্গলবার চুয়েট ক্যাম্পাসে এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, ২০০৩ সালে চুয়েট প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলমান পানি সমস্যা সমাধানে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বস্তি মিলবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় অবস্থিত কর্ণফুলী পানি শোধনাগার ১ ও ২ থেকে প্রতিদিন ২৯ কোটি লিটার পানি চট্টগ্রাম মহানগরে সরবরাহ করা হয়। ওই শোধনাগার থেকেই রাউজানে চুয়েট পর্যন্ত পৃথক পাইপলাইন স্থাপন করে পানি সরবরাহ করা হবে।
চুয়েটে বর্তমানে পাঁচটি অনুষদ ও ১৮টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছয়টি ছাত্র হল, তিনটি ছাত্রী হল এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষ থাকছেন।
চুয়েট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে চাহিদা মেটাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে।
পানি সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়েট কর্তৃপক্ষ গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পানি সরবরাহের আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুয়েটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই কলেজটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রামে রূপান্তর করা হয়। পরে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটিকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নাম দেওয়া হয়।







