চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে গড়ে তোলা একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় কারখানাটি থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে ওই কারখানায় পেনগানসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরে এসব অস্ত্র বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট বাজারে অবস্থিত ওসমানের সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায় জেলা পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সরকারহাট বাজারে ওই ওয়ার্কশপের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ করছিল পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে একটি দল মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনিতে অভিযান চালায়।
অভিযানে চক্রটির দুই সদস্য জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) ও মো. কবিরকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তাঁদের কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, ১৮টি পেনগানের গুলি ও দুটি পিস্তলের বুলেট উদ্ধার করা হয়।
মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন পুলিশকে জানান, এসব অস্ত্র সরকারহাট বাজারে ওসমানের সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপে তৈরি করা হতো। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ওয়ার্কশপের ভেতর থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত পাওয়া গেছে। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে মূলত অত্যাধুনিক পেনগানসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হতো।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ওয়ার্কশপের মালিক পলাতক ওসমানসহ চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








