বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেলের তৈরি। যুক্তরাষ্ট্র বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ ও প্রযুক্তিগত সেবা দিয়ে আসছে।
মঙ্গলবার বিকেলে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, “আজ ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছি। সেখানে দেখলাম, কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিবেদিতপ্রাণ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও কর্মীরা এখানকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করছেন।”
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমাদের এই অংশীদারত্বের মূল বিষয়ই হলো যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার প্রযুক্তি, আমাদের হস্তশিল্প এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশিদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার সমন্বয়। প্রোগ্রেস রেল, ওয়েবটেকসহ আরও অনেক সেরা আমেরিকান প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী।”
নিজের সফর নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আমার এই সফর সেই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজতর করতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া আমি ট্রেনে ভ্রমণ করতে সত্যিই পছন্দ করি। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই সফরটি অসাধারণ ছিল। পুরো ভ্রমণে যে চমৎকার আতিথেয়তা পেয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ। এই সফরটিকে বিশেষ করে তুলতে যারা সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
এর আগে দুপুর ১টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বিকেল ৩টায় তিনি প্রেসিডেন্ট সেলুন কোচে, যার বগি নম্বর ১২৬৫, রেলপথে পার্বতীপুর থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন।
সৈয়দপুর কারখানায় পৌঁছালে রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী মিস এনগক ডিন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিস নিকোল ক্ল্যারিসা বেসনার্ড, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মি. সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন এবং দূতাবাসের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মি. ফিরোজ আহমেদ।
এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, সৈয়দপুর সার্কেলের কর্মকর্তা ওহিদুর নবী, সৈয়দপুর থানা ও রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাষ্ট্রদূত সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ ও ক্রাইস্ট ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শনে যান। সফর শেষে মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।








