দাগনভূঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়ায় গ্রামীণ খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুই কিলোমিটার খাল খননের জন্য প্রতিদিন ১১৯ জন শ্রমিক নিয়োগের কথা থাকলেও পুরো কাজই এক্সকেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়িসহ জনপদ। সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৪০ দিনের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একদিনও শ্রমিক দিয়ে খাল খনন করা হয়নি। এতে সরকারের গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ব্যাহত এবং প্রকৃত শ্রমিকরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ১১৯ জন শ্রমিক কাজ করলে প্রায় ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। অথচ সেই কাজ একটি এক্সকেভেটর দিয়ে মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় সম্পন্ন করা হয়। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকা হারে ৪০ দিনে প্রায় ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জাকিয়া খাতুন বলেন, ‘মেশিন দিয়ে খাল কাটার ফলে আমার বসতঘরের পাশের মাটি সরে গেছে। রান্নাঘর, বাথরুম ও নলকূপ খালে ভেঙে পড়েছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।’ একই অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত বেলাল হোসেন ও জাকির হোসেন বলেন, ‘খাল খননের সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত গভীর করার কারণে আমাদের বাড়ির পাশের মাটি ধসে পড়েছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং বসতঘরও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ পথচারী লতিফ মিয়া বলেন, ‘এ খাল খননে আমাদের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হয়েছে। রাস্তার এক পাশ গার্ডওয়ালসহ খালে ভেঙে পড়েছে। এখন যানবাহন চলাচল ও স্কুলগামী শিশুদের চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে।’ এ বিষয়ে প্রকল্পের সেক্রেটারি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ এক্সকেভেটর দিয়ে এবং ৪০ শতাংশ কাজ শ্রমিক দিয়ে করা হয়েছে। ইউএনও, পিআইওসহ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই কাজ হয়েছে।’ তবে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কোনো ছবি বা ভিডিও আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে নেই।’ জায়লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুজন কান্তি শর্মা বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ১১৯ জন শ্রমিকের তালিকা চেয়েছিল। আমরা তালিকা সংগ্রহ করে তাদের কাছে পাঠিয়েছি।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল হোসেন বলেন, ‘অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় রাজাপুর ও সিলোনিয়া খালের খনন কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। বাড়িঘর ও রাস্তার অংশ খালে ভেঙে পড়াসহ কিছু অভিযোগও পেয়েছি। দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় মাটি ভরাট ছিল। খননের পর এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সহযোগিতা করা হবে।’ সম্পূর্ণ কাজ এক্সকেভেটর দিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এক্সকেভেটর ও শ্রমিক-দুভাবেই কাজ করা হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে এক্সকেভেটর প্রয়োজন সেখানে মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে, আর যেখানে শ্রমিক প্রয়োজন সেখানে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। শ্রমিকদের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। যতটুকু কাজ হবে ততটুকুর বিল পরিশোধ করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হবে।’








