মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের গতিরোধ করে ৬৬৫ কার্টন সয়াবিন তেল ডাকাতির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কাভার্ড ভ্যান চালকের দেওয়া তথ্যে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলঘরিয়া এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানায় ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির সুপারভাইজার আফছার উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো ট-১৮-২২০৬) ৬৬৫ কার্টুন ফ্রেশ সয়াবিন তেল (১১ হাজার ৭৭৩ লিটার) নিয়ে যশোরের ডিপোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে শ্রীনগর থানার উমপাড়া ওভার ব্রিজের উত্তর পাশে সার্ভিস রোডে পৌঁছালে নীল-হলুদ রঙের জেএসি পিকআপ ভ্যান দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটির গতিরোধ করে ৭/৮ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল। ডাকাতরা চালক আকিব হাসান জয় ও হেলপার নাহিদ হাসানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং হাত-পা ও চোখ বেঁধে পিকআপে তুলে নেয়। পরে নগদ ৪৩ হাজার টাকা, মোবাইল ও কাভার্ডভ্যানসহ তেল লুটে নিয়ে কেয়টখালী এলাকায় তাদের ফেলে রেখে যায়।

ঘটনার পর শ্রীনগর থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থেকে কাভার্ড ভ্যানের চালক আকিব হাসান জয়কে আটক করে।  আকিব ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর থানার বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে বেলঘড়িয়া বাজারের প্রতাপ কুমার রায়ের গোডাউন থেকে ৫৮৫ কার্টন এবং জামুর গ্রামের ইমরান হোসেনের (৩৬) ও তার বাবা আব্দুস সালামের বাড়ির গোডাউন থেকে ৮০ কার্টন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।

গোডাউনের মালিক প্রতাপ রায় জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন গোডাউনটি ভাড়া নেয়। গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন মধ্য জামুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। এর আগেও ইমরান চোরাই গরুর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় জেল খেটেছে। এলাকায় একজন মুদি দোকানি হলেও তার বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে।

শেরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুদ্দীন বলেন, চোরাই মালামাল উদ্ধার হয়েছে।