ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায়। ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল, স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে ঢামেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পরে শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, তিতুমীর কলেজসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।

বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে গাড়িবহরের গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটক পর্যন্ত গাড়িবহরের সঙ্গে এগিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন

ঢাকা মেডিকেলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। হাসপাতাল ও কলেজসংলগ্ন ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার, অস্থায়ী খাবারের দোকান, স্টেশনারি এবং অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন পর ফুটপাত স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেয়েছে, কমেছে যানজট। রোগীর স্বজন, পথচারী ও সাধারণ মানুষ এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

jagonews24স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা/ছবি: জাগো নিউজ

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া তিনি বৃক্ষরোপণ করবেন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

‘ঢামেকের এত সুন্দর পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি’

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাদের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রিয় ক্যাম্পাসে আসছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও আনন্দের বিষয়।’

ইএআর/ইএ