যশোরের মনিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের মালিকানাধীন জমি দখল করে পৌরসভার গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কৃষি দপ্তরের দাবি, কোনো ধরনের অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই প্রায় এক মাস আগে গ্যারেজ নির্মাণকাজ শুরু করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। আপত্তি জানানো হলে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করে তা শেষ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিন পৌরসভা চত্বরে গিয়ে নতুন নির্মিত গ্যারেজে কয়েকটি গাড়ি রাখা অবস্থায় দেখা যায়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তথ্যমতে, দুর্গাপুর মৌজায় মনিরামপুর পৌরসভা কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের নিজস্ব ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। সেখানে একতলাবিশিষ্ট দুটি ভবন ছিল। এর একটি ভবনে পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও সিড স্টোর এবং অন্যটি ওই কর্মকর্তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভবন দুটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর সেগুলো স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

কৃষি দপ্তরের অভিযোগ, ২০২২ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র মাহমুদুল হাসানের আমলে দপ্তরকে না জানিয়েই ভবন দুটি ভেঙে ফেলা হয়। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে সে সময়ের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের কাছে বিষয়টি গড়ায়। তখন পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করে, নতুন পৌর ভবন নির্মাণের জন্য কৃষি দপ্তরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ জমি প্রয়োজন এবং বিনিময়ে পৌরসভার নিজস্ব জমি থেকে সমপরিমাণ জমি কৃষি দপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

কৃষি দপ্তরের ভাষ্য, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে উল্টো পৌরসভা চত্বরসহ পুরো ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে অবশিষ্ট ৫ শতাংশ জমিতে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। বাধা দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। আমাদের না জানিয়েই টেন্ডারের মাধ্যমে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পাইলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। প্রশাসককে জানালে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার নির্মাণকাজ শুরু করে তা শেষ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দখল হওয়া জমির খাজনা কৃষি দপ্তর নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমির জন্য ৪১৩ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়েছে।’ বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের উপপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মনিরামপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার কৃষি দপ্তরের জমিতে গ্যারেজ নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এক মাস আগে গ্যারেজ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি কাজ শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসক জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন।’

বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন ছুটিতে দেশের বাইরে থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন পৌরসভার প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

মাহির দায়ান আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের আলোচনা হয়েছে বলে জেনেছি। কৃষি দপ্তরকে অন্য স্থান থেকে সমপরিমাণ খাসজমি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত নির্দেশনা পাইনি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি মনিরামপুরের ইউএনও ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনো কৃষি দপ্তর জমি বুঝে পায়নি। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানকে দুই দিন ধরে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।