রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসায় বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলার প্লাবিত গ্রামগুলো থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। ফলে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকেই দুর্গতরা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার কোথাও নতুন করে পাহাড়ধসের ঘটনা না ঘটলেও, মারিশ্যা এলাকায় প্রধান সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া, বরকলের ঠেগা খুব্বাং, চুমাচুমি, পুলছড়া, গুরিয়েছড়া ও গামারীতলা গ্রামের কয়েক শ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভা, সাজেক, বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮৭টি পরিবারের সর্বমোট ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ অবস্থান করছেন। সবচেয়ে বেশি ৫২০ জন আশ্রয় নেন সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বন্যার পানি কমতে থাকায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকেই দুর্গতরা নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জেলায় এখন পর্যন্ত ১২৫টি স্পটে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসময় গাছ উপড়ে পড়ে এবং পানিতে ডুবে মারা গেছেন তিনজন।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, দুর্গতদের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে যথেষ্ট ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে এখনো মাইকিং করা হচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব হবে।