রাজশাহীতে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এখন প্রতি কেজি সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে। মূলত বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে স্থিতিশীল মাছ, মাংস ও চালের বাজার।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নগরীর সাহেববাজার ও এর আশপাশের বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায় এবং আলু মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। বাজারে ১০০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এছাড়াও মিনিকেট চাল মানভেদে ৭৪ টাকা, আটাশ চালের দাম ১-৩ টাকা কমে বর্তমানে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহের ন্যায় করলা, কাঁকরোল, বেগুন, বরবটিসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ও কাঁকরোলও আছে এই তালিকায়। এছাড়া বরবটি, কচুর লতি, বেগুন, ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।

এ সপ্তাহে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে, কাঁচাকলা এক হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ১৫০-১৮০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, পটল ২৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ঝিংগা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাল কুমড়া প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।

রাজশাহীর বাজারে সবজিতে অস্বস্তি, স্থিতিশীল মাছ-মাংস

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি দেশি মুরগির ডিম ৫৫ টাকা, হাঁসের ডিম ৫৫ টাকা, ফার্মের মুরগির লাল ডিম ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা ও সাদা ডিম ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।

রাজশাহীর মাস্টারপাড়ায় বাজার করতে আসা মামুন বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বাজার কিছুটা চড়া। টানা বৃষ্টি থাকায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। মুরগির দামও বেড়েছে। পেঁয়াজ ও আলুসহ সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।’

রাজশাহীর সাহেববাজারের মাস্টারপাড়া বাজারের বিক্রেতা রনি বলেন, ‘বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫-১০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম।’

এদিকে মাছের দাম চড়া হলেও গত সপ্তাহের ন্যায় স্থিতিশীল। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তেলাপিয়া আর পাঙাশ ছাড়া অধিকাংশ মাছের দাম এখনো বেশি। বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতল ৩০০-৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা, টেংরা ৫৫০-৭০০ টাকা, চাষের শিং ৩৫০-৪৫০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা ও কোরাল মাছ ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বাজারে প্রতি কেজি বোয়াল ৬০০-৭০০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহী সাহেব বাজারের বড় ব্যবসায়ী হালিম মিয়া বলেন, ‘বাজারে সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বিক্রিও কমেছে।’

মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম