সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছে। এবার সেখানে মিলেছে চার বস্তা টাকা। এই প্রতিবেদন লেখার সময়, সেখানে টাকা গণনা চলছিল।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে মাজার পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো  খোলা হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দানবাক্সে বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের মধ্যে ১০০ টাকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ১৮ জুন নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী তিনটি ডেক সিলগালা করা হয়। ২২ জুন প্রথমবারের মতো নতুন দানবাক্স খুলে মাত্র চার দিনের সংগৃহীত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা গণনা শেষে সোনালী ব্যাংকের একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়েছিল। তখন ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোটের আধিক্য ছিল।

এরপর থেকে দানবাক্স ও ডেকের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ নবগঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, প্রথমবার দানবাক্স খোলাকে কেন্দ্র করে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে গত ২৬ জুন সরকারের পক্ষ থেকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।

কমিটিতে আরো রয়েছেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই প্রতিনিধি এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।