কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা হাজতে মাদক মামলার এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার দিনই দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) শেফালি আক্তার এবং কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনকে ক্লোজ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মুখলেছ সরদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শহরমূল দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজা হাওলাদার তার ছেলে রুবেল মিয়ার (২২) বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে থানায় মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাবার ফোন পেয়ে পুলিশ রুবেলকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিকলী থানা হাজতে নিয়ে যায়।
এর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাজতের কার্নিশে নিজের পরিহিত শার্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রুবেলকে দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রুবেল নিজের পরিহিত শার্ট ব্যবহার করে থানা হাজতেই আত্মহত্যা করেছেন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসকে রাসেল/এফএ/এএসএম








