ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অবকাঠামোগত যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার আরও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করেন ঢামেকের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রফেসর ডা. সৈয়দা শাহীনা সোবহান।
দেশের চিকিৎসা শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্ণ করে ৮১তম বছরে পা রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠানের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি গর্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন ঢামেকের সাবেক এই শিক্ষার্থী।
বর্তমানে ডা. সৈয়দা শাহীনা সোবহান গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (হেড অব ডিপার্টমেন্ট) হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশনের (সিএমই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে এক ধরনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই পরিবেশ আগের মতো নেই। বিশেষ করে গত ১০ বছরে এ পরিবর্তনটা আমি বেশি দেখেছি। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। এখনও অনেক শিক্ষার্থী অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং মূল্যবোধসম্পন্ন।
আরও পড়ুন
সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা হলো ঢাকা মেডিকেল: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবেগঘন পরিবেশের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন দিনে বারবার মনে পড়ে যায় আমাদের অনেক বন্ধু, বড় ভাই ও ছোটভাইদের কথা, যারা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তাদের স্মৃতি এই আয়োজনকে আরও আবেগময় করে তোলে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে প্রফেসর ডা. সৈয়দা শাহীনা সোবহান বলেন, ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা শুধু দক্ষ চিকিৎসক নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠুক-এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। সারাদেশের মানুষ ঢাকা মেডিকেলের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই প্রতিষ্ঠান কখনো কাউকে ফিরিয়ে দেয় না। এখানকার চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সেই মানবিক দায়বদ্ধতা ও সেবার ব্রত সবসময় অটুট থাকুক।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামোগত যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার আরও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ঢাকা মেডিকেলের ৮০ বছরের পথচলাকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, মানবিক সেবা এবং জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গৌরবগাথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের হাত ধরে আরও সমৃদ্ধ হবে, এমনই প্রত্যাশা সবার।
এমডিএএ/এএমএ








