গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা এলাকায় ভোরের আলো ফোটার আগে অটোরিকশা থামিয়ে এক নারী যাত্রীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এ সময় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের গাজীপুরের অপরাধচিত্র তুলে ধরা হয়। 

জিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের গাজীপুরার জিলানি মার্কেট এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত একটি অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক নারী যাত্রীকে আঘাত করে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে মো. জাহিদ দেওয়ান (২৬) ও মো. কামাল হোসেন (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এদিকে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মহানগর এলাকায় মোট ৮৪২টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা ১০টি, ডাকাতি ২টি, ছিনতাই ২০টি, সিঁধেল চুরি ৯টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৬৬টি, মাদক ৩৯৭টি, অস্ত্র ২৮টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৩১০টি মামলা রয়েছে।

এ সময়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বাটযুক্ত ট্রিগারবিহীন দেশীয় শটগানসদৃশ অস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, একটি স্পিনার এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের আকস্মিক মিছিলের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনায় গাছা থানায় দুটি এবং টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মিছিলে অংশগ্রহণ, সহায়তা বা অর্থায়নের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জিএমপি জানিয়েছে, অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ায় এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তথ্য সংগ্রহ, তালিকা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।