ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরু চুরির ঘটনা থামছেই না। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা। চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন খামারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে উপজেলার ইশ্বরবা, মেগুরখির্দা, বলিদাপাড়া গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১০ জুলাই দিবাগত রাতে বলিদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের একটি বাছুরসহ দুইটি বড় গাভী এবং মেগুরখির্দা গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি হয়েছে। এর এক দিন আগে ৯ জুলাই ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। যা রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী খামারি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল তিনটি গরু। দুধ বিক্রি করেই পরিবার চালাতাম। এখন সব শেষ হয়ে গেছে।’

খামারি আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘ভাবছি গরু পালন ছেড়ে দেব। এত কষ্ট করে গরু বড় করি, আর তা এক রাতে চোরেরা নিয়ে যায়।’

গরু চুরির এই ধারাবাহিকতা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে দাবি করে স্থানীয়রা জানান, গত মাসের ১৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২৬ জুন দিবাগত রাতে উপজেলা আগমুন্দিযা গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে ৫টি গরু ও ২০ জুন ভাদঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাড় গরু চুরি হয়। এর আগে ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলী নামে এক কৃষকের ৪ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।

এ দিকে গরু চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। এরই মধ্যে ২৫ জুন রাতে ভাতঘারা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেন এলাকাবাসী। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে গরু চুরির মতো কোনো আলামত না পাওয়ায় ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে ধরে ফেলতে পারব বলে আশা করছি।’